চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের সমন্বয়ক আটক

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বন্দর শাখার সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খোকনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে আটক করা হয়।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘র‌্যাবের একটি দল ইব্রাহীম খোকনকে আটক করে বন্দর থানায় সোপর্দ করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। এর আগে একই ঘটনায় পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছিল।’ 

রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও মোহাম্মদ ইব্রাহীম খোকনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান ধর্মঘট সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে পাঁচটি সমস্যার সমাধান না হলে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন দুজন। ইব্রাহীম খোকন ও হুমায়ুন কবীর। শুরুতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে আন্দোলন করলেও পরে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন তারা।

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি থেকে প্রথমে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে সংগঠনটি। গত মঙ্গলবার লাগাতার কর্মসূচি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ তুলে রবিবার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সোমবার সকাল ৮টা থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকনকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ পরিহার করে বারবার শ্রমিকদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গতকাল বন্দরের পাঁচ জন শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ আবার ইব্রাহীম খোকনকে আটক করা হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর যখন বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও স্থিতিশীলভাবে চলছিল, ঠিক তখনই প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ও নেতিবাচক পদক্ষেপ গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দর পরিস্থিতি অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, স্কপ চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক, বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন ও বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন।