ফলাফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচন চান বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জসিম

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানান তিনি।

আসনটিতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতা হারান বিএনপির নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। গত ৪ ফেব্রুয়ারি গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানিয়েছিল বিএনপি। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকাল ৫টার দিকে ফেসবুক লাইভে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন জসিম।

আজ সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন নানা অনিয়ম, ভয়ভীতি ও কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকরা ভোটের আগের দিন সুবিল ও মোহনপুর ইউনিয়নে অবৈধ অর্থ বিতরণের সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনুসারীরা বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াতের ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়। গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পদ্মকোট গ্রামে অস্ত্রসহ সোহেল রানা ও আলমগীরসহ আট জন আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার পরও নির্বাচন চালিয়ে যাই।’

ভোটের দিন তার এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জসিম উদ্দিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে প্রতি কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ব্যালটে আগেই সিল মেরে রাখা হয়। ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে সেগুলো ব্যালট বাক্সে ঢোকানো হয়।

তিনি বলেন, ‘এসব অনিয়মের প্রতিবাদে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিই। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও আমার নিজ কেন্দ্রে পরাজিত দেখানো হয়েছে। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নিজ কেন্দ্র গোপালনগরে আমার কোনও ভোটই দেখানো হয়নি। যা হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য।’

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি দেশবাসী ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই প্রহসনের নির্বাচন, সুক্ষ্ম ভোট ডাকাতির নির্বাচন ও সন্ত্রাস-কালোটাকায় প্রভাবিত নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভয়ভীতিহীন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব অধিকার পরিষদের ১নং সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাসেল হোসেন বেগ, দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য আবু তাহের মজুমদার প্রমুখ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়ন বৈধ হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ‘বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন’-নির্বাচন কমিশনে এমন অভিযোগে আপিল করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এতে শুনানিতে প্রার্থিতা হারান মুন্সী। এরপর হাইকোর্ট রিট এবং সর্বশেষ প্রার্থিতা ফিরে পেতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করলেও সেটিও ১ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এতে আর নির্বাচন করতে পারছেন না মঞ্জুরুল মুন্সী।