দেশের একমাত্র শোধনাগারে অপরিশোধিত তেলের মজুত কেমন?

শিগগিরই কাঁচামাল সংকটে পড়ছে না দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির হাতে এখনও রয়েছে অপরিশোধিত তেলের বিপুল মজুত। যা দিয়ে চলবে আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন চার হাজার মেট্রিক টন করে তেল পরিশোধন করছে প্রতিষ্ঠানটি। যা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে যাচ্ছে ভোক্তাদের হাতে।

এরই মধ্যে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে আগামী ২১ মার্চ দেশের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে একটি জাহাজ। ইরান যুদ্ধের কারণে ইস্টার্ন রিফাইনারির আরেকটি তেল ভর্তি জাহাজ সৌদি আরবের বন্দরে আটকা পড়েছে ২ মার্চ থেকে।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি। প্রতিষ্ঠানটিতে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) পরিশোধন করা হয়। অপরিশোধিত তেল থেকে পরিশোধনের মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় ডিজেল, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল, এলপিজি, জেট ফুয়েল ও বিটুমিন। তবে অকটেন এ প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন করা হয় না। যা সরাসরি আমদানি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা ও তাদের মধ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেননা বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগত এই নৌপথ অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমদানি নির্ভর বাংলাদেশেও।

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড সূত্র জানিয়েছে, এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত একটি মাদার ভেসেল সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দরে আটকা পড়েছে। এমটি নর্ডিক পলাঙ নামের জাহাজটি গত ২ মার্চ সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই জাহাজটিতে ক্রুড অয়েল লোড করা হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটি এখনও বন্দরে নোঙর করে আছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেল ভর্তি জাহাজটি রওনা দিতে পারছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছে, আগামী ২১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাত জেবেল আলী ধান্না বন্দর থেকে আরেকটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার শিডিউল রয়েছে। ওই জাহাজটিতেও এক লাখ টন তেল আনার কথা রয়েছে। তবে এ জাহাজটি হরমুজ প্রণালি নয়; বিকল্প নৌপথ হয়ে দেশে আসবে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ে তেল লোড করে আসবে এমন আশা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের।

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড সহ মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং) নাসিরুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে চার হাজার মেট্রিক টন করে ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হচ্ছে। এসব ক্রুড অয়েল পরিশোধনের পর প্রতি টনে ২ দশমিক ৮ শতাংশ করে বাদ যাচ্ছে।’

তার বক্তব্য অনুযায়ী যে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করছে প্রতিষ্ঠানটি এতে প্রতি টনে ২.৮ শতাংশ বাদ যাবে। বাকিটা পরিশোধিত তেল হিসেবে আসবে।

এ প্রসঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিং) মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমরা রিসিভ করেছি। সেগুলো পরিশোধন করা হচ্ছে। প্রতিদিন চার হাজার মেট্রিক টন তেল পরিশোধ করা হচ্ছে এ কারখানায়। অকটেন ব্যতীত ডিজেল, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল, এলপিজি, জেট ফুয়েল ও বিটুমিন এ কারখানায় উৎপাদন করা যায়। অর্থাৎ যখন যে তেলের চাহিদা বেশি থাকে তখন সে তেল বেশি উৎপাদন করা হয়।’

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য আমদানির এক লাখ টন তেল ভর্তি জাহাজ অপেক্ষা করছে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে। ২ মার্চ সকালে জাহাজটি দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে জাহাজটি আটকা পড়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে জাহাজটি দেশের উদ্দেশে রওনা দেবে। এ ছাড়াও আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ অপরিশোধিত তেল নিয় ২১ মার্চ দেশের উদ্দেশে আরও একটি জাহাজ রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছি, জাহাজটি নির্দিষ্ট সময়ে তেল নিয়ে দেশে পৌঁছাবে। আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে।’