ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে মারামারি, ভিডিও ভাইরাল

রাঙামাটি শহরে ফিলিং স্টেশনে ডিজেল কিনতে গিয়ে দুই ক্রেতার মধ্যে মারামারি হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে শহরের রাজবাড়ী এলাকায় মেসার্স এম এম পেট্রোলিয়াম এজেন্সি নামের ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচ থেকে ছয় জন ক্রেতার মধ্যে বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। তারা সবাই বোতল হাতে ডিজেল নিতে ফিলিং স্টেশনে এসেছিলেন। একপর্যায়ে তারা মারামারিতেও জড়ান। একজন আরেকজনকে কিলঘুষি দেন। এ নিয়ে অন্য ক্রেতাদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফিলিং স্টেশনটিতে গত সোম ও মঙ্গলবার জ্বালানি ছিল না। এ কারণে বিক্রিও বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে গতকাল বুধবার এতে জ্বালানি আসে। এরপর বিক্রি শুরু হয়। খবর পেয়ে গতকাল বিকালে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করেন গ্রাহকরা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তপন দেওয়ান জানান, বুধবার বিকালে রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনে অকটেন নিতে যান। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তিনি ডিজেল কিনতে আসা কয়েকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হচ্ছে দেখতে পান। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি হয়। লাইনে দাঁড়ানো নিয়েই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।

ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী রিপন চাকমা বলেন, ‘দুদিন পর গতকাল ফিলিং স্টেশনে সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন ও চার হাজার লিটার ডিজেল এসেছে। এ খবরে গ্রাহকরা ভিড় করেছিলেন। হঠাৎ ডিজেল কিনতে আসা কয়েকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি বিক্রি হয়। বর্তমানে এতে অকটেন ও ডিজেল নেই।’

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম বলেন, ‌‘লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। থানায় কেউ অভিযোগও দেননি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি শহরে চারটি ফিলিং স্টেশনে অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হয়। আজ দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চারটি স্টেশনের কোনোটিতেই তেল বিক্রি হচ্ছে না। জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে শহরের মোটরসাইকেল ও নৌযানের চালকরা বিপাকে পড়েছেন।

শহরের বনরূপা হিলভিউ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল চার হাজার লিটার অকটেন ও চার হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ পাওয়া গেছে। সেসব তেল গতকালই বিক্রি হয়ে গেছে। আজ তেলের জন্য চট্টগ্রামে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আপাতত ৮ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া গেছে। সেই তেল এখনো এসে পৌঁছায়নি। তাই বিক্রি বন্ধ আছে।’

তবে রাঙামাটিতে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করেছে প্রশাসন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবহারের মতো জ্বালানি তেল আছে। সংকট নেই।’