জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত সংস্কার করা হবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত সংস্কার করা হবে। এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই জাদুঘরকে সঠিকভাবে পূর্ণতা দেওয়া হবে।’ শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। কর্মকর্তারা জাদুঘরের অবকাঠামোগত পরিস্থিতি মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর বিপথগামী একদল সদস্যের হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হন। এই স্থাপনাটিকে পরে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, এই স্থাপনার অবস্থা ভালো না। এটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পুরোনো দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবকাঠামোগত অনেকগুলো সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আবার ভূমিকম্প হলে অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষককে এখানে হত্যা করা হয়েছে। এটি তার স্মৃতিবিজড়িত। এই জাদুঘরের মাধ্যমে তার স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশের সব মানুষের হৃদয়ের একটা আবেগের ব্যাপার আছে। এ জায়গার একটি গাম্ভীর্য আছে। এই স্মৃতি অম্লান। বাংলাদেশের মানুষের জন্য আগামীর ইতিহাসের জন্য তা ধরে রাখতে হবে। এসব কারণে এটার গুরুত্ব আরও বেশি। আর এমনিতেই দেশে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বেশি নেই। তাই যেগুলো আছে, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এটার একটা দ্রুত প্রতিকার আমাদের করতে হবে। এ রকম একটা হেরিটেজ প্রোপার্টি (ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা), বিশেষ করে যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যিনি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, দেশকে স্বাধীন করার অন্যতম সাহসী সন্তান, তার স্মৃতি রয়েছে। এই জায়গাতে আমাদের জন্য যথেষ্ট জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে।’

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের অবকাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে নজর দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অবকাঠামোর সংস্কার না করে রেনোভেশনের (নতুন রূপ) কোনও সুযোগ এখন নেই। এমনিতেই অবকাঠামোর যেসব সমস্যা আছে, তা সংস্কারে অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন দ্রুত কাজে হাত দেওয়া হবে। এরপর পরবর্তী কাজগুলো ক্রমান্বয়ে করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অর্পিতা দাশ গুপ্ত।