বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে বৈচিত্র্যময় আবহে জেগে উঠেছে বাংলাদেশ। বাঙালির প্রাণের উৎসব ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। উৎসবের রঙে নিজেদের রাঙিয়েছেন অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষও। শোভাযাত্রা, লোকজ সংস্কৃতি, গান, নাচ, আবৃত্তি—সবই ছিল এসব আয়োজনে। গ্রামগঞ্জে বসেছে বৈশাখী মেলা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে নতুন বছরকে বরণ করতে ছিল নানা আয়োজন। অতিথিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার।
চট্টগ্রামে নানা আয়োজন
নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অঙ্গন—সব খানেই লেগেছে বৈশাখের রঙ। বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে পুরো নগরী।
নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথক আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম বৈশাখ উদযাপনের আয়োজন করেছে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব। সিআরবি শিরীষতলায় এ আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডিসি হিল প্রাঙ্গণে এবং বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম জেলা সংসদের উদ্যোগে নন্দনকানন কাটাপাহাড় লেন এলাকায় বৈশাখের আয়োজন করা হয়। প্রতিটি আয়োজনেই আছে গান, নৃত্য, আবৃত্তি, নাট্য পরিবেশনা ও লোকজ সংস্কৃতির বহুমাত্রিক উপস্থাপন। সকাল থেকেই এসব অনুষ্ঠানে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও অংশ নেন উৎসবে। দিনভর চলছে লোকসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা।
চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতেও নববর্ষ বরণ উপলক্ষে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নেন স্থানীয় শিল্পীরা। সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ‘বোধন বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’। একইসঙ্গে কাজীর দেউড়িস্থ সিজেকেএস মুক্ত মঞ্চে (আউটার স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নরেন আবৃত্তি একাডেমি।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, চট্টগ্রাম ৩১-শে চৈত্র রাতে বৌদ্ধ মন্দির সড়কে ‘আলপনার রঙে নববর্ষ আবাহন’ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখে চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
নগরীর আবাসিক এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে বৈশাখের আমেজ। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ‘জুলাই স্মৃতি উদ্যানে’ (জাতিসংঘ পার্ক) দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সহযোগিতা করছে পিটুপি ও উইকন। মেলায় রয়েছে বিভিন্ন হস্তশিল্প, পিঠা-পুলি, খেলনা ও লোকজ পণ্যের দোকান, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
নগরের বাইরে সবচেয়ে বড় আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলা। পাশাপাশি পুতুল নাচ, বলিখেলা, বৌচি, কাবাডিসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করছে। এ ছাড়া পটিয়া সরকারি কলেজ মাঠেও বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয় চট্টগ্রামবাসী। সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রাটি নগরীর সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে কাজীর দেউড়ি, লাভ লেন মোড় হয়ে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষবরণ
দিনভর নানা আয়োজনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। বলীখেলা, বউছি, পুতুলনাচ, নাচ-গান ও আবৃত্তি নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৈশাখ উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান। শোভাযাত্রাটি জারুলতলায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে স্থাপিত বৈশাখী মঞ্চে চলে মূল অনুষ্ঠান।
বলীখেলার আয়োজন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে। উন্মুক্ত মঞ্চে চলে পুতুলনাচ। শহীদ আবদুর রব হলের মাঠে কাবাডি খেলা এবং চাকসু প্রাঙ্গণে বউছি খেলার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া নববর্ষ উপলক্ষে বুদ্ধিজীবী চত্বর ও শহীদ মিনার চত্বরে সকাল থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনের উদ্যোক্তা মেলা। নববর্ষ উপলক্ষে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারার প্রদর্শনীর আয়োজনও করা হয়। সেখানে স্থান পায় নাগরদোলা, পালকি, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, বায়োস্কোপসহ নানা কিছু। মূল ক্যাম্পাসে ফেরার কারণে প্রায় দেড় দশক পর এবার বর্ষবরণের আয়োজনে চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। আলপনা আঁকা ও মোটিফ তৈরির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে আরও বর্ণিল করে তোলেন তারা।
‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামেই বরিশালে বর্ষবরণ
‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ও নানা আয়োজন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে বরিশালে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। সকাল থেকে নগরজুড়ে শুরু হয় উৎসবের আবহ। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বরিশাল নাটকের আয়োজনে নগরীর ব্রজমোহন (বিএম) স্কুল মাঠে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য প্রভাতী অনুষ্ঠান। ভোর থেকেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে রঙ-বেরঙের পোশাকে অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমান। ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বৈশাখের চিরচেনা গান এসো হে বৈশাখ এসো এসো পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রভাতী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। রাখি বন্ধন ও ঢাকের বাদ্যে শুরু হয় শোভাযাত্রা। প্রভাতী অনুষ্ঠান শেষে চারুকলার আয়োজনে বিএম স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বরিশাল নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের নানা বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। রঙ-বেরঙের মুখোশ, মুকুট, টোপর, তালপাখা, টিয়া পাখি, টাট্টু ঘোড়াসহ গ্রামবাংলার নানা ঐতিহ্যবাহী উপকরণ শোভাযাত্রাকে করে তোলে দৃষ্টিনন্দন। এতে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
নববর্ষ উপলক্ষে বরিশাল বিএম স্কুল মাঠে আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। সেটিকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে কেনাবেচা ও বিনোদনের আয়োজন।
প্রভাতী অনুষ্ঠানে আগতরা জানান, পুরোনো সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন বছরকে বরণ করতে চান তারা। সবাই মিলে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।
বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনায় বর্ষবরণ
নানা আয়োজনে খুলনায় বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়। জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল বর্ষবরণ, বৈশাখী শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, লোকজ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সকালে রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ হাদিস পার্কে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। বৈশাখ উপলক্ষে শহীদ হাদিস পার্কে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ ও লোকজ মেলা বসে।
অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সর্বজনীন উৎসব। বাঙালির লোকসংস্কৃতির সঙ্গে বাংলা নববর্ষ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিগত বছরের যত গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বর্ষে আমরা নতুন করে শুরু করি।’
নববর্ষ উপলক্ষে জেলা কারাগার, হাসপাতাল ও সরকারি শিশু পরিবার, এতিমখানাসমূহে ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবার পরিবেশন এবং শিশু পরিবারের শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া জেল কয়েদিদের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্য প্রদর্শনী, কারাবন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নাটক প্রদর্শন করা হয়। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্ব-স্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে। শহীদ হাদিস পার্কে দিনব্যাপী লোকজ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলায় অনুরূপ কর্মসূচি উদযাপন হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর বৈশাখ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। দিনব্যাপী নানা আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বরণ করে নেয় বাংলা নতুন বছরকে। সকালে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।
এরপর শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ঘুরে দ্বিতীয় ফটক দিয়ে প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়। কাঠের তৈরি মোটিফ, মুখোশ, আল্পনা, ঢাক-ঢোলসহ নানা ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দেয় নববর্ষের রঙিন আবহ। পরে কেন্দ্রীয় মাঠে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য। মেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পিঠা-পুলি, হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও নানা পণ্যের স্টল বসানো হয়। শিশুদের জন্য ছিল নাগরদোলা, ম্যাজিক শোসহ বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন। বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আয়োজন করা হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে শেকড়কে ধারণ করেই উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যেতে হবে।’
ময়মনসিংহে বর্ণিল আয়োজন
ময়মনসিংহে বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। এর উদ্বোধন করেন সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ। এটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জয়নুল আবেদিন উদ্যানের বৈশাখী মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।
নগরবাসীর নজর কাড়তে শোভাযাত্রায় আবহমান গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপকরণ হাতে নিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
শোভাযাত্রায় বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি আবু বকর সিদ্দিক, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার কামরুল হাসান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল করিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এম এ হান্নান খান, লিটন আকন্দসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বৈশাখী মঞ্চে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এ সময় উদ্যানজুড়ে বসে রঙ বেরঙের বর্ণিল আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের গ্রামীণ মেলা। এ ছাড়াও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পদযাত্রা ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলার ঐতিহ্য ঘুড়ি উড়ানো, লাঠি খেলা, রশি টানাটানি ও হাডুডু প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উদযাপিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে এ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ৭টায় কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। এটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। এতে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা শেষে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিথিরা। মেলা উদ্বোধনের পরপরই শিশু একাডেমিতে শুরু হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে বর্ষবরণের নানা গান ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।
সিলেটে বর্ষবরণ উৎসব
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে নতুন বাংলা বছরকে বরণ করছে সিলেটবাসী। নগরের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর চলছে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির আয়োজন। নানা বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে সর্বত্র। সকাল ৮টায় নগরের সুবিদবাজার এলাকার ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শ্রুতি’র বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়। উদ্বোধন করেন প্রবীণ বাউলশিল্পী আবদুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এ অঞ্চলের মানুষও সেই সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।’ এ সময় তিনি সিলেটে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান।
এদিকে সকালে কেওয়াপাড়া এলাকার শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজে ‘আনন্দলোক সিলেট’-এর উদ্যোগে আরেকটি বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত ও নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেয় একাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। পাশাপাশি নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের একক পরিবেশনাও আছে।
সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ বের হয়। নগর ভবন থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
দুপুরে নবাবরোড এলাকার আল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে জাতীয় কবিতা পরিষদ সিলেট বিভাগীয় শাখার উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে আলোচনা সভা, আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।
এ ছাড়া চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে চৌহাট্টা এলাকার ভোলানন্দ নৈশ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলছে। এর বাইরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়।
রংপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন
রংপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৮টায় রংপুর জিলা স্কুলের বটতলায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়। সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ রংপুরের আয়োজনে শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গান গাওয়ার মাধ্যমে বরণ করা হয় বাংলা নববর্ষকে। কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজ উন-নবী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বক্তব্যে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণের আহ্বান জানান।
পরে রংপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি জিলা স্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে টাউন হল মাঠে এসে শেষ হয়। রঙিন মুখোশ, প্ল্যাকার্ড ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সকাল থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয়। চৈত্র সংক্রান্তিতে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক আয়োজন আগামীকাল শেষ হবে।
এ ছাড়াও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে সকাল ১১টায় রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম নববর্ষ উপলক্ষ্যে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জেলা বিসিক ও জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন।
বর্ষবরণে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর সরকারি কলেজ, সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজসহ বিভিন্ন নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে।
পাহাড়ে বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ
নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নানা নামে উৎসব উদযাপন করছেন। মারমা সম্প্রদায়ের ‘সাংগ্রাই’ উৎসবের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি জেলা শহরের পানখাইয়া পাড়ায় আয়োজন করা হয় মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসব। মৈত্রীর বন্ধন সুদৃঢ় করতে উৎসবে পানি নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ।
সকালে সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার এ কে এম ওবায়দুল হক উৎসবের উদ্বোধন করেন। এর আগে নববর্ষ উপলক্ষে একই মঞ্চে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করা হয়। শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী। শোভাযাত্রাটি পানখাইয়াপাড়া মারমা উন্নয়ন সংসদের মাঠ থেকে শুরু হয়ে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অংশগ্রহণ করেন মারমা নারী-পুরুষ।
মারমারা ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরা সম্প্রদায় ‘বৈসুক’, চাকমারা ‘বিজু’ নামে উদযাপন করেন বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের উৎসব। এ ছাড়া তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, অহমিয়ারা বিহু এবং চাক, ম্রো, বম, খুমিরা চাংক্রান নামে উদযাপন করেন।
রাঙামাটিতে বর্ষবরণ
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৮টায় রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে সেখানে লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।
সকাল ৯টায় রাঙামাটির রাজবন বিহারের মাঠ প্রাঙ্গণে বর্ষবরণ উপলক্ষে বিশেষ ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন বছরে সুখ, সমৃদ্ধি কামনা করে বিহারে করা হয় প্রার্থনা। অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন রাজবনবিহারের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য বিজয় গিরি চাকমা। পঞ্চশীল গ্রহণ শেষে মৈত্রী ভাবনা ও পরিত্রাণ সূত্র শ্রবণ করা হয়। পরে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বুদ্ধ প্রতিবিম্ব দান, সংঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ দান, বিশ্বশান্তি প্যাগোডার উদ্দেশ্যে টাকা দানোৎসর্গ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, ভেদাভেদ না রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে পার্বত্য অঞ্চলসহ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার মাধ্যমেই পার্বত্য চট্টগ্রামে সুখ-শান্তি ফিরে আসবে।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষজন তাদের ঐহিত্যবাহী নানা রঙের পোশকে অংশ নেন বৈশাখের র্যালিতে। শোভাযাত্রায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল অংশ নেয়।
পরে শহীদ আব্দুল আলী মঞ্চে জেলা শিল্পকলা একাডেমি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। যেখানে আবহমান বাংলার সংস্কৃতির পাশাপশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকেও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বসেছে লোকজ মেলা। গ্রাম বাংলার নানা প্রকার পিঠাপুলির দোকান বসানো হয়।
নওগাঁয় বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ
উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণে আনন্দ শোভাযাত্রায় নওগাঁয় নতুন বছরকে বরণ করা হয়েছে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে চলছে বর্ষবরণের বিভিন্ন অনুষ্ঠান। সকাল ৯টায় মৌসুমী বিদ্যানিকেতনের আয়োজনে শহরের উকিলপাড়া থেকে বের করা হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। সেটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৌসুমী বিদ্যানিকেতনের চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৌসুমীর প্রধান নির্বাহী মো. এরফান আলী। এ ছাড়াও সংস্থার কর্মকর্তা, কর্মচারী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ অংশ নেন শোভাযাত্রায়।
ঠাকুরগাঁওয়ে বাঙালির প্রাণের উৎসব পালিত
বর্ণিল আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁওয়ে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। নববর্ষকে বরণ করতে জেলার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছেন নানা সাংস্কৃতিক, কৃষিভিত্তিক ও ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে। ভোরে শহরের আদালত চত্বরের বটতলায় প্রভাতী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের সূচনা হয়। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন নিক্বণ সংগীত বিদ্যালয়ের শিল্পীরা রাগভৈরবীসহ বিভিন্ন সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানান।
এ সময় রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লোকগান, ভাওয়াইয়া ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক বর্ণিল পরিবেশ। প্রভাতী অনুষ্ঠানের পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা।
বগুড়ায় বর্ষবরণ ও পাঁচ দিনের মেলা শুরু
বগুড়ায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করা হয়েছে। সকালে শহরের এডওয়ার্ড পৌর পার্কে পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। এরপর এসো হে বৈশাখ গানের তালে নৃত্যে নতুন বছরকে বরণ করে নেন বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরামের কর্মীরা।
এরপর অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, খাগরাই, মুড়কি, বাতাসাসহ দেশীয় খাবারে মিষ্টিমুখ করানো হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় উৎসবে সবাইকে ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশ গড়তে হবে।
সাতক্ষীরায় নববর্ষ উদযাপন ও সাত দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন
সাতক্ষীরায় উৎসবমুখর পরিবেশ ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষকে। মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী মেলার মধ্য দিয়ে জেলাজুড়ে বইছে পহেলা বৈশাখের আনন্দধারা। সকাল ৮টায় কালেক্টরেট পার্কে জাতীয় সংগীত ও বর্ষবরণের চিরচেনা গান ‘এসো হে বৈশাখ’ গাওয়ার মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়। এরপর সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গিয়ে শেষ হয়। বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ শোভাযাত্রায় ফুটে ওঠে।
শোভাযাত্রা শেষে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সকাল ৯টায় একই স্থানে ফিতা কেটে সাত দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার। মেলায় স্থানীয় কুটির শিল্প ও কারু পণ্যের স্টলগুলো দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে।
উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে বিকালে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দিনটি উদযাপনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সাতক্ষীরায় এক সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বাংলা ট্রিবিউনের চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদন