এ সময় মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনার ও অন্যতম আসামি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আদেল, ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী ও যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টারসহ আসামিদের আইনজীবীরাও প্রধান সাক্ষীর সঙ্গে যুক্তিতর্ক করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতের বিচারক দেওয়ান মো. সফি উল আলম পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ বুধবার ধার্য করেন।
ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ দিন মাহতাব উদ্দিন মিনার ছাড়া কারাগারে থাকা অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্য প্রদান শেষে মামলার বাদী রেজাউল হক জসিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এজাহারে যা উল্লেখ করেছি, সে ভাবেই সাক্ষ্য দিয়েছি। আশাকরি বিচারকাজ শেষে প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাবেন।
আরও পড়তে পারেন: পোস্টারের ভাষায় নারীর প্রতিবাদ
এদিকে, মামলার প্রধান আসামি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন বলেন, সাক্ষীর বয়ানিতে যা উঠে এসেছে আমার মক্কেল তাতে দায় মুক্ত হবেন।
এর আগে গত বছরের ২৮ আগস্ট ৫৬ জনকে আসামি করে আদালতে একরাম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এর আড়াই মাস পর ১২ নভেম্বর আলোচিত এ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। মামলায় গ্রেফতারকৃত ১৬ জন আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ পর্যন্ত ৪৪ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। এদের মধ্যে জামিনে রয়েছেন চারজন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ফেনী কারাগারে ৩৩ জন, কুমিল্লা কারাগারে ছয়জন ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন প্রধান আসামি মাহাতাব উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মিনার। এ মামলায় এখনও পলাতক রয়েছেন ১২ জন।
আরও পড়তে পারেন: নাজিমুদ্দিন ও মুয়াজ্জিন বেলালের খুনিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি করে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে সাবেক ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরামকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন।
/বিটি/টিএন/