বাবা-মা বের হতে পারলেও পারেনি দুই শিশু, ঘরের মধ্যেই মৃত্যু

চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ও দেয়াল ধসে দুই শিশুসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পাহাড়ধস ও দেয়াল ধসে দুজন এবং বুধবার (৮ জুলাই) পাহাড় ধসে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। 

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নগরের ২৬টি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব পাহাড়ের মধ্যে ১৬টি সরকারি এবং ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন। এর মধ্যে সরকারি ১৬টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে ছয় হাজার ১৭৫টি পরিবার এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড়ে বসবাস করছে ৩৮৩টি পরিবার। প্রতি পরিবারে চার থেকে পাঁচ জন সদস্য থাকলেও পাহাড়ে বসবাসকারী বাসিন্দার সংখ্যা হবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার। 

তবে স্থানীয় হিসাবে পাহাড় এবং পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীর সংখ্যা লক্ষাধিক। পাহাড়ে বসবাস করলেও অধিকাংশ পরিবারে রয়েছে বিদ্যুৎ ও পানি। ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদফতরের লোকজন।

নগরের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা মহিন উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বায়েজিদে একের পর এক পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ের পাদদেশে বিদ্যুৎ-পানিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে লোকজন বসবাস করলেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। বর্ষা এলেই তাদের লোক দেখানো তৎপরতা বাড়ে।’

মঙ্গলবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার ইছাখালী গুচ্ছগ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হন। একই দিন দুপুরে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন রহমান নগর আবাসিক এলাকার বি-ব্লকে দেয়াল ধসে শফিকুর রহমান (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বুধবার পৃথক স্থানে পাহাড় ধসে দুই শিশু মারা গেছে। সকাল ৯টায় জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে ১০ মাস বয়সী মো. আশরাফুল ইসলাম তানভীর নামে এক শিশু মারা গেছে। মৃত তানভীর জঙ্গল সলিমপুরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহিন উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় মাটি চাপা পড়ে শিশুটির পরিবারের আরও কয়েকজন আহত হন। একই দিন দুপুরে নগরের পাঁচলাইশ থানার চশমা হিল এলাকায় পাহাড় ধসে সুমাইয়া আক্তার (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বায়েজিদ বোস্তামী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে এক শিশু মারা গেছে। দুর্ঘটনার সময় বাবা-মা বের হতে পারলেও শিশুটি বের হতে পারেনি। ফলে পাহাড়ের ধসেপড়া মাটি ঘরের ওপর পড়লে সেটি ভেঙে মাটি চাপা পড়ে সে। পরে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ওই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘পাহাড়ের প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এসিল্যান্ড এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২৬টি পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করছে। প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে কাজ করছেন।’