সড়কের গর্তে পড়ে ভেঙেছে গাড়ি, ৭ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দিতে মেয়রকে আইনি নোটিশ

চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর ফ্লাইওভারের মুখে সড়কের গর্তে পড়ে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও সড়ক বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে গাড়ি মেরামত বাবদ ব্যয় হওয়া ৯১ হাজার টাকা সাত দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে। 

গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আইনজীবী মো. মীর হাসান বাবুলের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশটি পাঠানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খালেদ মাহমুদ রায়হানের পক্ষে।

খালেদ মাহমুদ রায়হান মুরাদপুর সংলগ্ন মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। পেশায় একজন আইনজীবী। নিয়মিত অফিসে যাতায়াতে নিজের প্রাইভেটকার ব্যবহার করতেন। কিন্তু মুরাদপুর ফ্লাইওভার এলাকায় রাস্তার কার্পেটিং নষ্ট হয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা ঠিক করেনি সিটি করপোরেশন। গত ১৪ জুলাই এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার একটি গর্তে চাকা পড়ে খালেদ মাহমুদ রায়হানের গাড়ির চাকা ফেটে যায়। পুরো গাড়ির মেরামতে তার খরচ হয়েছে ৯১ হাজার টাকা। ৯১ হাজার টাকা সাত দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে চেয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন ও সড়ক বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে এই নোটিশ পাঠানো হয়। 

নোটিশে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কটি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এই ক্ষয়ক্ষতির দায় তাদের ওপর বর্তায়।

সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হলেও মুরাদপুর ফ্লাইওভারের মুখে দীর্ঘদিন ধরে কার্পেটিং নষ্ট হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত যান চলাচলে বিঘ্ন এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার হোন্ডা ভেজেল গাড়ি নিয়ে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার একটি গর্তে চাকা পড়ে গাড়ির চাকা ফেটে যায়। এতে মাডগার্ড, এক্সেল, বাম্পার, সাসপেনশন, স্টিয়ারিং র‍্যাক বক্স, হ্যাঙ্গার ও গাড়ির রংসহ বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব মেরামতে ৯১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি গাড়িটি ব্যবহার করতে না পারায় নিয়মিত অফিসে যাতায়াতও ব্যাহত হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ না দিলে মেয়র ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে একাধিকবার কল দিলেও ধরেননি।