চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পৌনে ৮ লাখ মানুষ, পানিবন্দি হাজারো পরিবার 

চট্টগ্রামে বন্যায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও জেলার সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপেজেলায় ২ হাজার ৬৫০টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বন্যায় ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে ১৫ জন মারা গেছেন। অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় মহানগরের ২৪টি ওয়ার্ড এবং জেলার ১৫টি উপজেলার ১৩২টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বুধবার (১৫ জুলাই) জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন।  

চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় পুরো জেলায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মহানগরের ২৪টি ওয়ার্ড এবং জেলার ১৫টি উপজেলার ১৩২টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। 

বুধবার (১৫ জুলাই) জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান চট্টগ্রামের এই সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পানি কমতে শুরু করলেও জেলার সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় এখনো ২ হাজার ৬৫০টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

চট্টগ্রামে কোথায় কত শতাংশ জলাবদ্ধতা 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে এবার ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে ৮৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে বাঁশখালী উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নে ৬০ শতাংশ, আনোয়ারা  উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে ৭০ শতাংশ, কর্ণফুলী উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ২৫ শতাংশ, সন্দ্বীপ উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নে ৮০ শতাংশ, সীতাকুণ্ড উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৪০ শতাংশ, মীরসরাই উপজেলার ১ টি ইউনিয়নে ১০ শতাংশ, ফটিকছড়ি উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে ৬৫ শতাংশ, হাটহাজারী উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে ৮০ শতাংশ, রাউজানে ৬ টি ইউনিয়নে ৬০ শতাংশ, রাঙ্গুনিয়ায় ১০ টি ইউনিয়নে ৩০ শতাংশ, বোয়ালখালীতে ৭ টি ইউনিয়নে ২০ শতাংশ, পটিয়ায় ১৮ টি ইউনিয়নে ২৫ শতাংশ, চন্দনাইশে ১০টি ইউনিয়নে ৩৫ শতাংশ, লোহাগড়ায় ৫টি ইউনিয়নে ৭০ শতাংশ এবং মহানগরের ২৪টি ওয়ার্ডে ৫০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।  

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি 

চট্টগ্রামে কোথায় কতজন মারা গেছেন  

ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে ১৫ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলায় ৩ জন, বাঁশখালী উপজেলায় ৪ জন, আনোয়ারা  উপজেলায় ২ জন, সীতাকুণ্ড উপজেলায় ১ জন, রাউজানে ১ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ১জন, হাটহাজারীতে ১ জন এবং মহানগরে ২ জন মারা গেছেন।  

চট্টগ্রামে ১৫ হাজার ২২৮ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত 

চট্টগ্রামে এবার ভয়াবহ বন্যায় প্রাথমিক হিসেবে ১৫ হাজার ২২৮ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলার ২ হাজার ৪৮০টি, বাঁশখালীতে ৪ হাজার ৫১০টি, আনোয়ারায় ১৪৫টি , কর্ণফুলীতে ৭৭টি, সন্দ্বীপে ১ হাজার ৬৪০টি, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ২৫০টি, মীরসরাইয়ে ৭৮টি, ফটিকছড়িতে ৩৭৮টি, হাটহাজারীতে ৭২৫টি, রাউজানে ১৪৫ টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৫১০ টি, বোয়ালখালীতে ৩৮ টি, পটিয়ায় ১২১ টি, চন্দনাইশে ২৩৫টি, লোহাগড়ায় ৬৫০টি  এবং মহানগরে ২ হাজার ২৪৬টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

৪০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত 

চট্টগ্রামে বন্যায় ৪০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলার ৬৫টি, বাঁশখালীতে ৫টি, আনোয়ারায় ৫টি , কর্ণফুলীতে ৫টি, সন্দ্বীপে ৩টি, সীতাকুণ্ডে ৭টি, মীরসরাইয়ে ৫টি, ফটিকছড়িতে ১২টি, হাটহাজারীতে ১৮৫টি, রাউজানে ২টি, রাঙ্গুনিয়ায় ২০টি, বোয়ালখালীতে ৩টি, পটিয়ায় ৫টি, চন্দনাইশে ২৮টি, লোহাগড়ায় ৫টি  এবং মহানগরে  ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।