এক সপ্তাহ ধরে ঘরের চুলায় আগুন জ্বলে না, আমার পরিবারে ত্রাণ পৌঁছায়নি

‌‘এক সপ্তাহ ধরে ঘরের চুলায় আগুন জ্বলেনি। বাড়িতে থাকা ধান-চাল, ডাল-তেল-সব ভেসে গেছে বন্যার পানিতে। পুকুরের মাছও নেই। শেষ সম্বল মাটির ঘরটিও ভেঙে গেছে। সাত সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। মুড়ি, বিস্কুট আর কলা খেয়ে দিন কেটেছে। এখন বাড়ি এসে ঘরটি বেহাল।’

কথাগুলো বলেছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের নুরুল করিম। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল কেড়ে নিয়েছে তার তিল তিল করে গড়ে তোলা দীর্ঘদিনের সবকিছু।

নিজের বিধ্বস্ত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন আর চোখের পানি মুছছিলেন। তিনি বলেন, ‘তিল তিল করে সব গড়েছিলাম। মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আল্লাহ ছাড়া আমার আর কোনও ভরসা নেই।’

নুরুল করিম বলেন, ‘বন্যার পানি ঘরে ঢুকে আমার দীর্ঘ দিনের সঞ্চিত ধান, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খাদ্যসামগ্রী ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। পুকুরে চাষ করা মাছও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। বন্যা শুরুর পর থেকে ঘরের চুলায় আগুন জ্বলেনি। হাতে টাকা না থাকায় বাজার থেকে খাবার কিনে আনার সামর্থ্যও নেই। কাজও নেই। পরিবার নিয়ে মুড়ি, বিস্কুট আর কলা খেয়ে দিন পার করছি। এখন সব বেলায় ভাত পাচ্ছি না।’

আক্ষেপ করে নুরুল করিম আরও বলেন, ‘আমার ঘরের চাল, ডাল, তেল সব পানিতে ভেসে গেছে। আমরা বিশুদ্ধ পানি আর শুকনা খাবারের জন্য কষ্ট করছি। বন্যার পানিতে মাটির তৈরি বসতঘরটিও বিলীন হয়ে গেছে। যে ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বছরের পর বছর কাটিয়েছিলাম, সে বসতঘর এখন আর নেই। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় হারিয়ে এখন আমি নিঃস্ব।’

শুধু নিজের কথা নয়, আশপাশের অসংখ্য পানিবন্দি ও বন্যাকবলিত পরিবারের দুর্দশার কথাও তুলে ধরে নুরুল করিম। বলেন, ‘আমার মতো অসংখ্য পরিবার আজ নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু আমাদের মতো অসহায় পরিবারের কাছে সেগুলো ঠিকমতো পৌঁছায় না।’

এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘বাঁশখালীতে প্রতিদিন সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। ত্রাণ পাওয়া থেকে কেউ যদি বাদ পড়ে থাকেন খবর পেলে দ্রুত ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বাঁশখালী উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়নে ৬০ শতাংশ এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪ হাজার ৫১০টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই উপজেলায় সরকারিভাবে ১০০ টন চাল এবং ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।