ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবার মৃত্যু, কারণ বিয়ে?

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বগুজরা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতরা হলেন- ওই এলাকার স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশ গুপ্ত (৫৫)। এ ঘটনায় তাদের ছেলে রমি দাশ গুপ্তকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে আনোয়ারা থানা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে নিজ বাড়িতে ছেলে রমি দাশের সঙ্গে মা কল্পনা দাশের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি দিয়ে মায়ের ওপর হামলা চালায় রমি। কল্পনা দাশকে বাঁচাতে স্বামী স্বপন দাশ এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কল্পনা দাশের। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত স্বপন দাশকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আহত অবস্থায় স্বপন দাশকে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর তিনি মারা যান।’

স্থানীয় লোকজন জানান, রমি দাশ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। এর আগে তাকে একাধিকবার পাবনার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রায় তিন মাস আগে বাড়িতে ফেরেন। তাকে বিয়ে করানোর জন্য মা-বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিল। কাজকর্ম না করায় মা-বাবা তাকে বিয়ে করাতে রাজি হননি। শনিবার দুপুরে বিয়ের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনাইদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

ওসি জানান, ‘বিয়ে করানোর বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় ছেলের। মা তাকে আগে চাকরি করতে বলেছেন। এর জের ধরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে লোকজন জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’