স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব জায়গায় আমাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে: নাহিদ ইসলাম 

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‌‘সব সম্প্রদায়কে ভোটের আগে এ দেশের প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলো ব্যবহার করেছে। আওয়ামী লীগও এটা করেছে, বিএনপিও করছে। তাদের ভোটব্যাংক বানিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পরে তাদের কোনও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কথা বললেও সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।’ 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সকল জায়গায় আমাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। পাহাড়ে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। আমরা আশা করি ৫০ বছর পর আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পাহাড়ে নতুন তরুণ জনপ্রতিনিধি পাবে।’

রবিবার (২ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রামে ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শিরোনামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। নগরের জামালখান এলাকায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হলে এই সভার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগ ও তিন পার্বত্য জেলা কমিটি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটা সরকার টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনও প্রতিনিধি নেই। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কবে হয়েছে আমার জানা নেই। এটা করতে পারছে কারণ সরকার কোনও জবাবদিহির আওতায় নেই। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকে আওয়াজ আসা উচিত।’ 

পাহাড়ের সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা সবার সমান নাগরিক অধিকারের পক্ষে। একইসঙ্গে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। সবাই মিলে আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবো। পাহাড়ের বঞ্চনার অবসান করতে হবে। আমরা পাহাড়ে ভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির কথা শুনতে পাই। আলাদা ধরনের সন্ত্রাস আছে। এসবের সমাধান লাগবে। পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’ 

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি জটিল। এটার একরৈখিক সমাধান নেই। পাহাড়ের নৃগোষ্ঠীগুলো বিভিন্নভাবে বঞ্চিত, সমান মর্যাদা পায় না। আবার বাঙালিরাও নানা বঞ্চনার শিকার। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভাজন, দ্বন্দ্বের কথা শুনি। এটার সুযোগ নেয় বিদেশি শক্তি। আমাদের কাজ হচ্ছে, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশকে উন্নত করলে, সুষম বণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত আলাপ আলোচনা করে সমাধান বের করা। সামরিক কায়দায় পাহাড়ে খুব বেশি দিন খুব বেশি কিছু অর্জন করা যাবে না। তাদের মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। যারা দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখে সুবিধা নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সবাই মিলে একটা সমাধানে এসে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে। পুরোনোরা পারেনি, আমরা যারা নতুন আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।’