রেজাল্ট দেওয়ার দুই দিন আগে মারা যাওয়া শিহাব পেলো জিপিএ-৫

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিদ্যুতায়িত হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী শিহাবের মৃত্যুর দুই দিন পর প্রকাশ হয়েছে পরীক্ষার ফল। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে সে পেয়েছে জিপিএ-৫। সন্তানের এমন কৃতিত্বের দিনে যেখানে পরিবারে থাকার কথা ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, সেখানে একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকের মাতম চলছে।

শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের মানরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। সে ঢাকার বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিহাবের বাবা তোফাজ্জল হোসেন ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দুই ছোট বোনের বড় ভাই শিহাব ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। চাচা তাজুল ইসলামের বিয়েতে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে সে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে গোসল শেষে বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে যায় শিহাব। এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনের জন্য টানানো রঙিন বাতির তারে জড়িয়ে বিদ্যুতায়িত হয় সে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতেই তার দাফন সম্পন্ন হয়।

শিহাবের চাচা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চাকরির কারণে শিহাবের পরিবার ঢাকায় থাকতো। চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। শিহাব ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তার দুটি ছোট বোন রয়েছে।’

সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানা গেছে, শিহাব জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফল প্রকাশের দিন স্বজনদের মধ্যে যেখানে আনন্দের ঢেউ ওঠার কথা, সেখানে একমাত্র সন্তানকে হারানোর বেদনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, ‘চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে শিহাবের বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর মধ্যে আজ এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে। শিহাব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকাহত।’

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নি ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’