এক জেলার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ, গ্যাসের জন্য হাহাকার

গ্যাস সংকটে বন্ধ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবকটি ফিলিং স্টেশন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুরোপুরিভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। তবে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ও পাম্প গুলো চালু হবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার থেকে জেলার ৫টি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এরপর গ্যাস সংকটে বৃহস্পতিবার রাত থেকে সবকটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহন চালকরা। বাধ্যে হয়ে অনেক সিএনজি অটোরিকশা চালক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন তারা। 

মূলত গ্যাস সরবরাহ বন্ধের আগে জেলার ৫টি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করতো বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। যদিও চাহিদা রয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে সংকটের কারণে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ ছিল কম। সাধারণত ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও ২-৩ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। সর্বশেষ গত বুধবার থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমিয়ে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে গ্যাসের অভাবে সড়ক-মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার চলাচল কমে গেছে। এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে স্বল্প সংখ্যক অটোরিকশা চললেও ভাড়া নিচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরাও। 

ফরিদ মিয়া নামে এক যাত্রী জানান, শহরের কুমারশীল মোড় বিশ্বরোড যাওয়ার জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা পান। তবে তার কাছে ভাড়া চাওয়া হয় ৮০ টাকা। যদিও নিয়মিত ভাড়া ৪০ টাকা। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় রাজি করান অটোরিকশা চালককে। 

রফিক মিয়া নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানান, শহরের কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় রুটে অটোরিকশা চালান তিনি। এ রুটে নিয়মিত ভাড়া ৫০ টাকা। তবে গ্যাস সংকটের কারণে গত বুধবার থেকে ৭০ টাকা ভাড়া নিচ্ছিলেন যাত্রীদের কাছ থেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এলপিজি সিলিন্ডারে অটোরিকশা চালানোর কারণে ৯০ টাকা ভাড়া নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।  

সরাইল খাজা গরিবের নেওয়াজ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মোনায়েম মিয়া জানান, গত বুধবার থেকে ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর পক্ষ থেকে গ্যাস না পাওয়ার কারণে সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তাই যানবাহনে গ্যাস দেয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী রবিবার বা সোমবার গ্যাস সরবরাহ করা হতে পারে। 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পনি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক জানান, এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। কবে নাগাদ এই সংকট কাটবে সে সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও আমাদের কিছু জানাতে পারছে না। তবে আশা করি সহসায় এই সংকট কেটে যাবে।