ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রেললাইনের নাট-বল্টু খুলে ভাঙারির দোকানে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে হুমায়ুন কবির (৩৫) নামের এক ওয়েম্যানকে আটক করেছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম রেলওয়ের মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৭টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের উত্তর পাশে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাকে আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেফতার হুমায়ুন কবির গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার ক্ষীরাহাটি গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ের পথ বিভাগে (পিডব্লিউ) ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত।
আরএনবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের উত্তর পাশে অভিযান চালানো হয়। এ সময় রেলওয়ের মালামাল নিয়ে অবস্থান করা হুমায়ুন নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অংকুর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পাকা সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়।
তার সঙ্গে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ তল্লাশি করে রেলওয়ের বিভিন্ন মালামাল পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৫টি ইআরসি রয়েছে, যার ওজন ১৩ কেজি ৯০০ গ্রাম। এ ছাড়া একটি হুক বল্টু ১ কেজি ৭০০ গ্রাম এবং চারটি ইনছান ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম। সব মিলিয়ে জব্দ মালামালের ওজন প্রায় ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ হাজার টাকা।
আরএনবির সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, হরষপুর রেলস্টেশন এলাকায় নতুন মালামাল পুনঃস্থাপনের পর পুরোনো মালামালগুলো চুরি করে বিক্রির উদ্দেশে নিয়ে এসেছিলেন তিনি।
আটকের সময় পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়দের পিটুনিতে হুমায়ুন আহত হন। পরে তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়েম্যানদের দায়িত্বের মধ্যে রেললাইনের বিভিন্ন অংশের নাট-বল্টু, ফিসপ্লেট, ক্লিপসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ ঠিক রাখা এবং কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত মেরামত করা অন্যতম। এসব গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ খুলে নিয়ে বিক্রি করা হলে রেলপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আটক রেলওয়ে কর্মচারী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাবিলদার মো. রেজাউল করিম বাদী হয়ে ২০১৬ সালের রেলওয়ে সম্পত্তি (অবৈধ দখল উদ্ধার) আইনের ৪ ধারায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় মামলাটি করেন।