৯ শ্রমিকের মৃত্যুর পর জানা গেলো ফেরদৌস স্টিলের ছাড়পত্রের মেয়াদ ছিল না

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নয় শ্রমিকের মৃত্যুর পাঁচ দিন পর জানা গেলো ওই শিপইয়ার্ডে পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ ছিল না। এ কারণে বুধবার (১৯ আগস্ট) পরিবেশ অধিদফতরের শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিকালে জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নবায়ন না করে জাহাজ কাটার কাজ পরিচালনা করে আসছিল ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড। প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ইস্যু করা পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয় গত ১২ আগস্ট। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি এমটি রাসি নামের একটি পুরোনো জাহাজ কাটার কাজ করেছিল। এ কারণে বুধবার শুনানি শেষে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লং ইয়ার্ডকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর বিভিন্ন ধারায় পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

গত ১৪ আগস্ট সকালে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে নয় জন শ্রমিক মারা যান। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ১০ জন। দুর্ঘটনার পর পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ইয়ার্ডটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন প্রতিবেদন ও ছবি পর্যালোচনা করে ছাড়পত্র ছাড়া কাটিং চালানোর প্রমাণ পাওয়ার পর শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুনানি শেষে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতির জন্য ‘এনভায়রনমেন্টাল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতিতে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়।

ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসবিআর) পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের কমিটি, জেলা প্রশাসনের নয় সদস্যের কমিটি এবং বিএসবিআরের পাঁচ সদস্যের কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

নয় জনের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডও ফেরদৌস স্টিলের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তাদের মৃত্যুর কারণ হাইড্রোজেন সালফাইড বলে প্রাথমিকভাবে জানায় শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ অধিদফতর ও বিস্ফোরক পরিদফতরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দলের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটিতে যান। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে দলটিতে থাকা বিশেষজ্ঞরা জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকসহ বিভিন্ন অংশ থেকে বাতাস, মাটি ও রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করেন। তবে পরিদর্শনের সময় হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শূন্য পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার তদন্ত দলের পরিদর্শনের সময় বাতাসে হাইড্রোজেন সালফাইড ছিল না। ঘটনা ঘটার চার দিন অতিবাহিত হওয়ায় গ্যাস জোয়ারের পানিতে দ্রবীভূত হয়ে গেছে বা বাতাসের সঙ্গে মিশে সরে গেছে। এখন অক্ষত ট্যাংকগুলোয় হাইড্রোজেন সালফাইড আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।’