নুসরাত হত্যায় হাইকোর্টের রায় আজ, গ্রামের বাড়িতে বাড়তি নিরাপত্তা

আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাতের বাড়ি ও পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোর থেকে বাড়িটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

রবিবার রাতে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নুসরাতের বাড়িতে যায়। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিরাপত্তার বিষয়টি খোঁজ নেন। পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নুসরাতের বাড়িতে আগে থেকেই দুইজন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। আজকের হাইকোর্টের রায়কে সামনে রেখে নতুন করে আরও সাতজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে নুসরাতের বাড়ির নিরাপত্তায় মোট ৯ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

নুসরাতের বড় ভাই মো. নোমান বলেন, বাড়িতে তাদের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা রয়েছেন। বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। তারা হাইকোর্টে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. আবুল হাসিম বলেন, ২০১৯ সালে নুসরাত হত্যা মামলার বিচারিক আদালতের রায়ের পর থেকেই পরিবারের নিরাপত্তায় নিয়মিত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এবার হাইকোর্টের রায়কে ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাদে নুসরাত জাহান রাফির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

হাইকোর্টে রায়ের অপেক্ষা

বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পৃথকভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চে গত ২৮ জুলাই নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি শেষে আজ  ২৪ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়।

এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।