২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রবিবার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে মামলাটি করেন লোহাগাড়ার আমিরাবাদের প্রবাসী আমির হোসেন। তিনিও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
মামলায় আরমান উদ্দিনের ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয় জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দোকানে হামলা, মালামাল লুট ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী কবির জিলান। তিনি বলেন, ‘মামলার পর আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে সাতকানিয়া সার্কেলে এএসপিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাকি অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- আরমানের সহযোগী মো. আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, মো. আদিল, মো. আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন।’
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আমির হোসেন লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্স এলাকায় চারতলা ভবন নির্মাণ করে নিচতলায় দোকান এবং অন্যান্য অংশ ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। কিছুদিন ধরে তিন নম্বর আসামি আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রথম আসামি মো. আরিফ উদ্দিন তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে আসামিরা বাদীর মার্কেটের নিচতলায় ভাড়াটে ওবায়দুলের দোকানের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন। পরে দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের স্টিলের আলমারি, ওয়াল শোকেসসহ মালামাল নিয়ে যান। এসব মালামালের মূল্য প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দোকানের একটি ক্যাশ টেবিলসহ ভেতরে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানের ভাঙা অংশে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ভবনের অন্য ভাড়াটিয়াদেরও তাদের মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে আসামিরা বাদীর মার্কেটে বৈঠক করেন। এ সময় আরিফ উদ্দিন বলেন, ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তারা বাদীর দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না। আরমান উদ্দিন মোবাইলে বাদীকে তাদের কথামতো চলার জন্য চাপ দেন। এ ছাড়া আসামিরা বাদী আমির হোসেনকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।
মামলার বাদী আমির হোসেন বলেন, ‘প্রথমে মামলা করতে থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় আদালতে গিয়েছি। চাঁদা দাবির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই আমি। ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।’
চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুন মাসে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে পায়ে গুলি করার পরিকল্পনা নিয়ে কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফাঁস হওয়া অডিওতে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী আরমান উদ্দিনের সঙ্গে আরেক ব্যক্তির কথোপকথন শোনা যায়। প্রাথমিকভাবে ওই ব্যক্তি লোহাগাড়ার স্থানীয় বিএনপির কর্মী তারেকুল হক বলে জানা যায়। আরমান উদ্দিনের বাড়িও লোহাগাড়ায়।
অডিওতে তারেকুল হককে বলতে শোনা যায়, ‘লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করবো কেন এসেছে। লোহাগাড়ার এমপি আরমান সাহেব, এখানে আরমান সাহেবের কথাই চলবে।’
জবাবে আরমান উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ‘এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি। তারপরও লোকজনের জ্বালায় আসে।’