ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশি এক যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আটক যুবকের নাম মো. সুজন (২৫)। তিনি উপজেলার পৌর এলাকার দক্ষিণ কোলাপাড়া গ্রামের মো. বেলাল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ, বিজিবি ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে পরশুরাম উত্তর বাজারের ডাকবাংলো বিজিবি ক্যাম্পের পূর্ব পাশে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে সুজন ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
সুজনের বাবা মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে সীমান্ত এলাকায় গেলে ভারতীয় বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানিয়েছি।’
সুজনের মা বলেন, ‘আমার ছেলে লাকড়ি আনতে গিয়েছিল। কিন্তু নেশা করে- এমনটা আমি কখনও দেখিনি। আমার ছেলেকে এনে দেন। তার কিছু হলে আমি থাকতে পারবো না।’
সুজনের স্ত্রী আয়েশা আক্তার বলেন, ‘দুপুরে আমি আমার স্বামীকে বলেছিলাম, ঘরে লাকড়ি নেই- নদীর পাড় থেকে লাকড়ি এনে দিতে। সে মাদক আনতে যায়নি। এটা মিথ্যা কথা। সে নেশা করে না।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাহফুজ বলেন, ‘হঠাৎ চিৎকারের শব্দ শুনে আমরা ছুটে যাই। তখন কয়েকজন বন্ধু মিলে রেলব্রিজের পাশে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। সেখানে গিয়ে সুজনকে দেখতে পাইনি, শুধু তার গলার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। বর্তমানে সে মাদকের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত নয়।’
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা চলছে। একদিকে পরিবারের সদস্যরা সুজনকে নির্দোষ দাবি করে দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় একটি সূত্র তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের অভিযোগ তুলেছে।
ফেনী ৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সুজন নামের ওই যুবক মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ভারতের শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। এ সময় ইয়াবাসহ ভারতীয় বিএসএফ তাকে আটক করে। বর্তমানে সুজন ভারতের বিলোনিয়া পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী সাজা শেষে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।’