বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া ৩ জন গ্রেফতার, কাদের অনুসারী তারা?

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে থাকা সেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তারা হলেন- মো. সাদেক আলী (২৮), কামরুল হাসান (৪৩) ও মো. হানিফ (৩৪)। তিন অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করা হলেও সেদিন তাদের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে সাদেককে চট্টগ্রামের মীরসরাই, কামরুলকে চাঁদপুর এবং হানিফকে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১টি দেশি একনলা কাটা বন্দুক, ১১টি ধারালো ছুরি, ৩টি কিরিচ, ১টি দা ও ১৫টি লাঠি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন মো. সাদেক আলী ও সিরাজুল ইসলাম নামের দুই অস্ত্রধারীর ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়। এর মধ্যে সাদেক গ্রেফতার হলেও সিরাজুল ইসলামকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। এ ছাড়া ঘটনার দিনের ছবি বিশ্লেষণ করে কামরুল হাসান এবং মো. হানিফের কাছেও অস্ত্র ছিল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। কামরুলের কাছে ছিল শুটার গান এবং হানিফের কাছে ছিল একটি পিস্তল। এ ছাড়া ঘটনার দিন হানিফ একটি ব্যাগ বহন করছিলেন। ওই ব্যাগেও অস্ত্র ছিল বলে পুলিশের সন্দেহ।

গত ১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি-ভিডিওতে তিন জনকে অস্ত্র হাতে দেখা যায়। 

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি, ভিডিও বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়। এরপর অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়। সোমবার রাতে অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া সাদেককে মীরসরাই থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করে পুলিশ। একই সময়ে চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে হানিফকেও গ্রেফতার করা হয়।’

ওসি বলেন, ‘অস্ত্রধারীদের হাতে যে অস্ত্র ছিল, সেগুলো উদ্ধার করা যায়নি। কামরুলের কাছে শুটার গান এবং হানিফের কাছে পিস্তল ছিল। গ্রেফতার করা ব্যক্তিরা তাদের অস্ত্রগুলো হাত বদল করেছেন। সাদেকের কাছ থেকে একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হলেও সেটি ভাইরাল হওয়া ছবিতে থাকা অস্ত্র নয়। সাদেক ও কামরুলকে নিয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার দিন ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘হানিফকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার প্রকৃত অস্ত্রটি উদ্ধারসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’ তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর নাকি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারী, তা জানাননি ওসি।

ঘটনার দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে সাদেককে অস্ত্র হাতে দেখা যায়। সে সঙ্গে সিরাজুল ইসলাম নামের একজনকেও অস্ত্র হাতে দেখা যায়। তবে এখনও সিরাজকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘অস্ত্র প্রদর্শনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু করি আমরা। তাদের দেওয়া তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অপরাধী যে দলের, যে গ্রুপের বা যে রাজনৈতিক পরিচয়ই ব্যবহার করুক না কেন—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।’