ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশুলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ইদ্রিস আলীকে (৪০) গ্রেফতার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় করা দুটি হত্যা মামলার আসামি তিনি।
মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ইদ্রিস আলী আশুলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আলী আহম্মদের ছেলে। গ্রেফতারের পর তাকে আখাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ এসআই মো. শরীফুল ইসলাম।
ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে ইদ্রিস আলী তার বোন ও ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনে আসেন। তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করার সময় পুলিশ জানতে পারে আশুলিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় হামলার অভিযোগে দুটি হত্যা মামলা রয়েছে।
ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ শরীফুল ইসলাম জানান, ইদ্রিস আলী ভারতে যাওয়ার জন্য সকালে ইমিগ্রেশনে আসেন। তার কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় তার নামে একাধিক হত্যা মামলার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, ‘একাধিক হত্যা মামলা থাকায় ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিল। গ্রেফতারের পর তাকে আখাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা বোন ও ভাগিনার বিরুদ্ধে কোনও মামলা না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেফতারের পর ইদ্রিস আলীকে আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা বিষয়টি আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানিয়েছি। আশুলিয়া থানা পুলিশ আসার পর ইদ্রিস আলীকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা রয়েছে। তাকে আখাউড়া থানা থেকে আমাদের থানায় আনতে পুলিশ রওনা হয়েছে। এখানে আনার পর তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’