জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শিত হওয়ায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং পুরো বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ওই বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাইক্রোঅর্গানিজম ডে উপলক্ষে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত চলাকালে ডিজিটাল স্ক্রিনে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শন করা হয়।
এ ঘটনায় অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘নীল দল’-এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ এবং অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তারা ইতোমধ্যে সেই কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক, জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনকে সদস্য এবং প্রক্টর অধ্যাপক এএফএম আরিফুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে এ সময়কালে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য।
ওই ঘটনার দিন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ বলেছিলেন, অনুষ্ঠানের ডিজিটাল ব্যানার ও ভিডিও তদারকির দায়িত্বে একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ইউটিউব থেকে বেশি দেখা জাতীয় সংগীতের একটি ভিডিও ডাউনলোড করেছিলেন। ভিডিওটির শেষ ১০ সেকেন্ডে শেখ হাসিনার ছবি ছিল, যা ওই শিক্ষার্থী আগে খেয়াল করেননি। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।
একই কথা বলেছিলেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা। তিনি তখন বলেছিলেন, আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অডিওতে জাতীয় সংগীত বাজানো হতো। এবার ডিজিটাল স্ক্রিন থাকায় দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষার্থী ইউটিউব থেকে ভিডিওটি সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বাজানোর আগে সেটি পুরোটা চালিয়ে দেখা হয়নি। ভিডিওর শেষে এমন কিছু থাকবে, তা কারও জানা ছিল না।