গভীর রাতে যুবলীগ নেতার বাড়িতে আগুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের টানা তিনবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের বসতঘরে রাতের আঁধারে আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের খাল্লা গ্রামের বাড়িতে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা এই আগুন দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে বসতঘরটিতে। আগুনের তীব্রতায় ঘরের কাঠ ও টিন কাঠামোসহ ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় দীর্ঘদিনের পুরোনো ঘরটি। ঘরের ভেতরে থাকা দামি আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্য মূল্যবান সামগ্রীও পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। 
পরে স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। সকালে আগুনে পোড়া ঘরটি দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন এলাকার মানুষ।

জানা গেছে, মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের বাবা মরহুম জীবন মিয়াও দরিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সূত্রে তাদের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের পৈতৃক বাড়ির এই ঘরটিও ছিল পরিবারের দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ।

মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনও টানা তিনবার এই দরিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি যুবলীগ নেতাও।

তবে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, রাজনৈতিক বিরোধ বা প্রতিহিংসার জেরধরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপন জানান, এটি তার বাবার আমলের অনেক দামি কাঠের তৈরি একটি প্রাচীন ঘর। ঘরটি তাদের পরিবারের ঐতিহ্য ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ইউনিয়নের মানুষের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করেছি।

তিনি বলেন, কিন্তু প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ঘরটি পুড়িয়ে দেওয়া হবে এটা ভাবতেও পারছি না। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, পুলিশ তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে এটাই আমার প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।