চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ছবি মুখের সামনে ধরে মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সাবেক উপাচার্যের প্রতি সম্মান ও সমর্থন জানাতেই এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মুখের সামনে ধরা ছিল অধ্যাপক সায়েমের মুখাবয়বের ছবি। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত গিয়ে আবার পুনরায় একই স্থানে ফিরে আসে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘তোমার ভিসি, আমার ভিসি—সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ এবং ‘এক দফা, এক দাবি—সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ স্লোগান দেন। মিছিল শেষে শহীদ মিনারে অবস্থান নেন তারা। সেখানে অধ্যাপক সায়েমের ছবি সরিয়ে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখান। এরপর অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলের সময় দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে ছবি হাতে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ আয়োজন নিয়ে ছিল উৎসাহও। শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যাপক সায়েম চুয়েটে মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছেন। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। তিনি এখন শিক্ষার্থীদের কাছে ‘আইকন’। তার প্রতি সম্মান ও সমর্থনের প্রতীক হিসেবেই ছবি নিয়ে মিছিলে অংশ নিয়েছেন তারা।
এরপর অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী নাবিলা রাইসা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছি, সবার আগে বাংলাদেশ এই মহান আদর্শকে সামনে রেখে আপনি যে নবজাগরণের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে আশা ও স্বপ্ন জাগিয়েছেন এবং একটি নতুন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, আমরা সেই বাংলাদেশেরই তরুণ প্রজন্ম। আপনি ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল প্রধানমন্ত্রী। আমরা বিশ্বাস করি, চুয়েটের প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর এই যৌক্তিক দাবিও আপনি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন।’
শিক্ষার্থীরা বলছেন, অনেকে বলছে আমাদের আন্দোলনে ক্যাম্পাসের বহিরাগতরা প্রবেশ করেছে। কিন্তু এ দাবি মিথ্যা। তাই আমরা আমাদের নিজেদের পরিচয়পত্র আজ তুলে ধরে দেখাচ্ছি।
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বর তাকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর থেকে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে কমপ্লিট শাটডাউন, মশালমিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।