চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত রবিবার সংঘর্ষে জড়ানো মুরাদ বাহিনীর প্রধান মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি যুবদলের সংগঠক পরিচয় দেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার পটিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে বাকলিয়া থানা–পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলার পটিয়া থেকে মুরাদ বাহিনীর প্রধান মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, মুরাদের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে বিক্রি করতেন জসিম নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু বছরখানেক আগে দুই জনের সম্পর্ক ভেঙে যায়। মুরাদের কাছ থেকে ইয়াবা নেওয়া বন্ধ করে অন্য উৎস থেকে মাদক সংগ্রহ শুরু করেন জসিম। গুরু মুরাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এলাকায় নিজের বলয় তৈরি করেন। গড়ে তোলেন কিশোর গ্যাং। এরপর মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, জায়গা দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শুরু হয় দুই জনের বিরোধ। সেই বিরোধের জেরে গত রবিবার রাতে নগরের বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়।
শোনা যায় কয়েকটি বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ। আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে ঘরে ঢুকে পড়েন স্থানীয় লোকজন। পুলিশ বলছে, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় জসিমসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাকলিয়ার এই এলাকায় দুই পক্ষের বিরোধ নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে রবিবার রাতের ঘটনা ছিল বড় আকারের। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১৫০ থেকে ২০০ লোক অংশ নেন। তাদের বেশির ভাগই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুরাদ বাকলিয়া এলাকার পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরে বসবাস করছেন। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তিনি নিজের একটি বলয় তৈরি করেন। স্থানীয়ভাবে সেটি ‘মুরাদ বাহিনী’ নামে পরিচিত।
মুরাদের ফেসবুক প্রোফাইলে নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিওও রয়েছে তার প্রোফাইলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক, অস্ত্র ও মালামাল লুটের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরও তার কর্মকাণ্ড থামেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজেকে নগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হকের অনুসারী হিসেবেও পরিচয় দেন মুরাদ।
তবে এমদাদুল হক বলেন, মুরাদ তার অনুসারী নন। কারও অপরাধের দায় দল নেবে না। অপরাধী হলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।
মুরাদের সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান বাকলিয়া থানার ওসি শাহিনুর আলম।