সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে এগারো দালালসহ ৭৬ জন উদ্ধার

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী একটি বোট থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় টহল দেওয়ার সময় তাদের উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১২টার দিকে নৌবাহিনীর গণসংযোগ দপ্তর থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নৌবাহিনী জানায়, সেন্ট মার্টিন লাইট হাউস থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ নামের একটি বোট সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় একটি কাঠের বোট দেখতে পায়। পরে সেটিকে সহায়তা করতে এগিয়ে গেলে বোটে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি নৌবাহিনীকে জানানো হলে সেন্টমার্টিন ও আশপাশের এলাকায় টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোটটি জব্দ করে। এ সময় বোটটিতে পানি ঢুকতে থাকায় নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তাদের আটক করা হয়েছে। বাকি ৬৫ জন মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। তাদের অধিকাংশকে মানব পাচারকারী চক্র অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল। পরে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল।

নৌবাহিনী আরও জানায়, বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি ঢুকে পড়ায় সেটিতে থাকা ব্যক্তিদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। আটক ১১ জন এবং জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। মানবপাচার ও চোরাচালানসহ সমুদ্রে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।