গুদামে গ্যাস, বাজারে সংকট-গ্রাহকের পকেট কাটছে সিন্ডিকেট

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট করে তাদের জিম্মি করা হচ্ছে।

গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তাদের জিম্মি করা হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে তাদের।

তারা জানান, গত মাসেও ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার রায়পুরে অধিকাংশ দোকানে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হতো। গত কয়েক দিনে সেই দাম বেড়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের মানুষ। একই সঙ্গে বাড়তি দামের কারণে ছোট খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ এলপিজিনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

রায়পুর উপজেলায় ছোট-বড় ৩৫টি হাটবাজার রয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর)সকালে সরেজমিনে রায়পুরের প্রধান সড়ক, হায়দরগঞ্জ, মোল্লারহাট, খাসেরহাট, বাসাবাড়ী, রাখালিয়া, মীরগঞ্জ, নতুনবাজার, গাজীনগর ও মিতালি বাজার এলাকায় গিয়ে সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়।

পৌর শহরের নিউমার্কেটের দুই ব্যবসায়ী জানান, বিভিন্ন গোডাউনে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও খুচরা বাজারে সংকটের কথা বলা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।

রায়পুর নতুনবাজার, মিতালিবাজার ও বাসটার্মিনাল এলাকার কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছি না। আমাদেরই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। সেই কারণে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউসার বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।