ভিপি নুরের নাম বলে চাঁদা দাবি করা সেই নেতা গ্রেফতার

‘পাঁচ, পাঁচ-ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’—মোবাইলে এমন কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সভাপতি ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে। এর একদিনের মাথায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলাটি করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী। মামলায় ফারুক হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

সোলাইমান চৌধুরী বলেন, ভিপি নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠায় তার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। ফারুক হোসেনের অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে ভিপি নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানি হয়। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মামলা করেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল ছড়িয়ে পড়া ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ডে ফারুক হোসেনকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তির কাছে পাসপোর্টের কাজ, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি কার্ড বাবদ প্রাথমিক খরচের জন্য টাকা দাবি করতে শোনা যায়। দলীয় একটি সূত্র জানায়, তিনি এসব কাজে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।

অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল রাতে ফারুক হোসেনকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক নাঈম হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাদিম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামের নির্দেশে তাকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।

এদিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার নাম বলে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি) বলা হয়েছে।’

তবে ফারুক হোসেন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তার কণ্ঠ সম্পাদনা করে অডিওটি তৈরি করেছে। তিনি পাঁচ লাখ টাকা চাননি; পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। ওই ‘পাঁচ হাজার’ টাকার কথাই বিকৃত করে ‘পাঁচ লাখ’ বানানো হয়েছে বলে দাবি তার।

যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম জানান, তারা অডিওটি শুনেছেন এবং যাচাই করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা করে ফারুক হোসেনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।