অটোরিকশা থামিয়ে সুমন বলেছিল ‘এটা অন্য জায়গা’, শত চেষ্টা করেও বাঁচতে পারেনি স্কুলছাত্রী

বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেছিলেন ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী। চালক সুমন মিয়া সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যান অন্য পথে। অন্ধকার ও নির্জন জায়গায় পৌঁছে অটোরিকশা থামালে বিপদ আঁচ করতে পারেন ওই স্কুলছাত্রী। চালকের কাছে জানতে চান, ‘এটা কোথায় এনেছেন?’ সুমন জানান, এটি রেসকোর্স নয়, অন্য জায়গা। তখন অটোরিকশা থেকে নেমে প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করেন ওই স্কুলছাত্রী। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশের দাবি, সুমনই তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার এএসপি (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানখেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্তের কার্যক্রম শুরু করে। ওই কিশোরীর বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন। তিনি কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্থায়ী ঠিকানা যশোর হলেও বাবার চাকরির সূত্রে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে শুক্রবার ( ৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সে যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করেন ওই স্কুলছাত্রী। কিছু দূর যাওয়ার পর সুমনকে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন তিনি। এরপর সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে অন্য পথে চলে যান।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে অটোরিকশা থামিয়ে দেন সুমন। জায়গাটি অন্ধকার ও নির্জন হওয়ায় স্কুলছাত্রী ভয় পেয়ে কোথায় এসেছেন জানতে চান। সুমন জানান, এটি রেসকোর্স নয়, অন্য জায়গা। তখন অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন ওই শিক্ষার্থী। এ সময় সুমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন এবং অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের চেষ্টা চালান। ওই শিক্ষার্থী চিৎকার শুরু করলে সুমন তার গামছা গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে সুমন মিয়া জানান, তিনি ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছেন। পরে তাকে ধানখেতে নিয়ে উপুড় করে শুইয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর তার ব্যবহৃত হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানখেতে ফেলে দেন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনের একটি পুকুরে গোসল করেন সুমন। এরপর ভাড়ায় চালিত অন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার ( ৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী, বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে ওই শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এএসপি পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, আরও কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।