স্কুলছাত্রীকে হত্যার পর মসজিদের পুকুরে গোসল করে অটোরিকশাচালক

কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন সিএনজিচালক সুমন মিয়া। হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে পালানোর পথে পাশের একটি মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করেন তিনি। ধস্তাধস্তির সময় শরীরে কাদামাটি লাগায় শনাক্ত হওয়ার ভয় কিংবা অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে গোসল করে থাকতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের একটি সূত্রের।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার এএসপি (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় সিএনজিচালক সুমন মিয়া ছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে হত্যার পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানখেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্তের কার্যক্রম শুরু করে। ওই কিশোরীর বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন। তিনি কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্থায়ী ঠিকানা যশোর হলেও বাবার চাকরির সূত্রে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় নির্জন ও অন্ধকার জায়গায় পৌঁছে সুমন অটোরিকশাটি থামিয়ে দেন। জায়গাটি চিনতে না পেরে কিশোরীটি তাকে জিজ্ঞেস করে, এটি কোথায়। সুমন জানান, এটি রেসকোর্স নয়, অন্য জায়গা। তখন ভয় পেয়ে সে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় সুমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন এবং যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করলে কিশোরীটি চিৎকার শুরু করে। একপর্যায়ে সুমন নিজের গামছা তার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সে দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করে সুমন। পরে ধানখেতে নিয়ে উপুড় করে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে হত্যা করার কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে সিএনজিচালক।

পুলিশ আরও জানায়, কিশোরীটির হাতব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানখেতে ফেলে দেন সুমন। এরপর ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করেন। পরে ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাখরাবাদে যান। সেখানে একটি পুকুরের পাড়ের ঝোপঝাড়ে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান। পরে শুক্রবার ( ৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী, বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে ওই শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়।

পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছেন কি না, আরও কোনো উদ্দেশ্য ছিলো কি না, সে ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।