চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অচলাবস্থা পূজার বন্ধের পর স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে করছেন নতুন উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ শরীফুল আলম। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে মুঠোফোনে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বসে চুয়েটের দাফতরিক কাজগুলো সারছি। শিগগিরই আমি চুয়েটে যাবো। বেশিরভাগ ছাত্র-শিক্ষক আমাকে চুয়েটে নেওয়ার জন্য খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা আমার সঙ্গে দফায় দফায় সাক্ষাৎ করছেন।’
উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের যে দুই সপ্তাহ লেখাপড়ায় ক্ষতি হয়েছে; আমি ক্যাম্পাসে যাওয়ার পর চেষ্টা করবো তা কীভাবে পুষিয়ে দেওয়া যায়।’
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নতুন উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ শরীফুল আলম চুয়েট ক্যাম্পাসে যেতে পারেন এমন খবরে শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি চুয়েট ক্যাম্পাসে যাননি। পাশাপাশি উপাচার্য ভবনের সামনে প্রতিদিন অবস্থান কর্মসূচিসহ নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করছেন চয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার চুয়েট ক্যাম্পাসে না যাওয়ার প্রসঙ্গে শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘ওই দিন যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল, তবে সিদ্ধান্ত ছিল না। এ কারণে যাওয়া হয়নি।’
কবে ক্যাম্পাসে যাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে নতুন উপাচার্য বলেন, ‘শিগগিরই ক্যাম্পাসে পূজার বন্ধ শুরু হয়ে যাবে। আমারও ঢাকায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ মিঠিং আছে। সেগুলো শেষ করে পূজার বন্ধের পর বৈঠকের পর প্রস্তুতি নিয়ে ক্যাম্পাসে যাবো। পূজার বন্ধের পর ক্যাম্পাস স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’
আন্দোলনের মাঝে ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে যোগদান করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি যোগদান সম্পন্ন করেছি। শিক্ষা সচিব আমার যোগদান গ্রহণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় যোগদানের বিষয়টি জানানো হয়েছে। যোগদানের পর থেকে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বসে দাফতারিক কাজ সারছেন বলেও জানান।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে তার স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত আসে।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাম্পসে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন শুরু করেন তারা। এই আন্দোলনে একত্রিত হয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। আন্দোলনের কারণে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে অচলাবস্থা বিরাজ করছে; যা এখনও কাটেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ। তালা ঝুলছে প্রশাসনিক ভবনেও। ক্যাম্পাসে এই অচলাবস্থার মধ্যেই দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে। আগামীকাল রবিবার থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এ দায়িত্ব দেন। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি কর্তৃপক্ষ; বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, ডিন ও বিভিন্ন দফতর প্রধানকে ই-মেইলে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে ১১ ও ১২ অক্টোবর, দুই দিনের জন্য রুটিন দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি জানিয়েছি।’