জেলেদের ৫ টন চাল বিক্রি করে দেওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত ইউপি সচিব

জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি খাদ্য সহায়তার পাঁচ টন চাল বিক্রির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) গোলাম মোস্তফা শামীমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্ত কমিটি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘চাল জব্দের পর রাতেই ওই প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে তদন্ত কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তা শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তাকে সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ রক্ষার অভিযান উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে বিতরণের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। চাঁদপুর কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি গুদাম) থেকে সেসব চাল জেলেদের না দিয়ে বিক্রি করে দেন ইউপি সচিব গোলাম মোস্তফা। রবিবার রাতে একটি মিনি পিকআপে করে চালগুলো কুমিল্লার লাকসামের দিকে পাঠানো হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে চালবাহী গাড়িটি হাজীগঞ্জ এলাকা থেকে ঘুরিয়ে চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে চাঁদপুর শহরের বিপণিবাগ এলাকা থেকে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাসেমের নেতৃত্বে গাড়ি ও চাল জব্দ করা হয়। চালগুলো চাঁদপুর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে চালের ক্রেতা পরিচয় দেওয়া ইউনুস বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে পাঁচ মেট্রিক টন চাল কিনেছি। দুপুরে খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলনের পর সেগুলো জেলার বাইরে পাঠাচ্ছিলাম। তবে পথে আলীগঞ্জ এলাকা থেকে প্রশাসনের নির্দেশে চালের গাড়িটি চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনা হয়।’

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ইউপি সচিব গোলাম মোস্তফাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে। চাল পাচারের কারণ ও এর পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। সেই আলোকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯৭০ জেলের জন্য বরাদ্দ হয় ১১ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। কিন্তু ওই চাল নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি।