কাদের মির্জা ও তার গৃহিণী স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেলো দুদক

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুল ও ছেলে মির্জা মাশরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুদক।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ইদ্রিস মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাদের মির্জা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সভাপতি এবং দলটির সম্পাদক ও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক আসামি ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই। গতকাল সোমবার দুদক নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী বাদী হয়ে কাদের মির্জা, তার স্ত্রী ও ছেলেকে আসামি করে তিনটি মামলা করেন। মামলা তিনটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪–এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ থেকে ২০০১ এবং ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বসুরহাট পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদ অর্জন করেন আবদুল কাদের মির্জা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে এক কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার প্রমাণ মিলেছে। অপরদিকে পেশায় গৃহিণী ও কোনও বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুলের নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে এক কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া অপর মামলায় কাদের মির্জার ছেলে মির্জা মাশরুর কাদেরের ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও মামলার বাদী চিন্ময় চক্রবর্তী জানান, কমিশন থেকে অনুমোদনের পরই তিনটি মামলা করা হয়েছে। তদন্তের সময় এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।