কক্সবাজারে নেই ডিএনএ ল্যাব, ১০ মরদেহ শনাক্তে দীর্ঘ অপেক্ষা

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ রয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে। মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কক্সবাজারে ডিএনএ পরীক্ষার ল্যাব না থাকায় নমুনা পাঠাতে হবে ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে। এতে মরদেহ হস্তান্তরে এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিকদের আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, আগুনে অধিকাংশ মরদেহ গুরুতরভাবে দগ্ধ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছ থেকে রক্ত বা মুখের ভেতরের কোষের নমুনা (বুকাল সোয়াব) সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে মরদেহ থেকে নমুনা নিয়ে তা ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে পাঠানো হবে। স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো এবং পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দগ্ধ বা বিকৃত মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। বাংলাদেশে এ ধরনের ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার কেন্দ্রীয় সুবিধা মূলত ঢাকার সিআইডি ল্যাবে রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত আলোচিত হত্যাকাণ্ড ও দুর্ঘটনার ঘটনায়ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। তার মতে, কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় আধুনিক ডিএনএ পরীক্ষাগার স্থাপন করা জরুরি।

রবিবার সকাল থেকেই কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করছেন নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা। তাদের মধ্যে সামুশুদ্দোহা নামের এক স্বজন বলেন, শিশুসহ আমার পরিবারের চারজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছোট শিশুটিকে হাতে থাকা ব্রেসলেট দেখে শনাক্ত করেছি। বাকিদের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রিপন নামের আরেক স্বজন বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে স্বজনদের নমুনা পাঠানো হবে। অন্যদিকে, কক্সবাজারের মর্গে থাকা মরদেহ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দুই নমুনার ডিএনএ মিলে গেলেই মরদেহগুলো বুঝে নিতে পারবো।

দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা বা অপরাধের তদন্তে সময় কমাতে চট্টগ্রাম বিভাগ কিংবা কক্সবাজারে আধুনিক ডিএনএ পরীক্ষাগার স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পর্যটননগরী কক্সবাজারে প্রায়ই বড় দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, সমুদ্রে দুর্ঘটনা এবং অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে আধুনিক ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার সুবিধা চালু করা গেলে তদন্তের গতি বাড়বে, ভোগান্তি কমবে এবং নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা দ্রুত প্রিয়জনের মরদেহ বুঝে নিতে পারবেন।

এদিকে, রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাতে উখিয়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদ (তানভীর সুলতান মিয়া), তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোর্শেদ, রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।