অবরোধে স্থবির সাজেক, পর্যটকশূন্য রিসোর্ট-কটেজ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে দুই সংগঠনের ডাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট। এদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে পর্যটক নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বাঘাইহাট বাজার এলাকায় গিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। বাজারের বেশির ভাগ দোকানপাটও বন্ধ ছিল। কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সাধারণ সময়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণে মুখর থাকা বাজারটি এদিন অনেকটাই ফাঁকা দেখা যায়।

এ সময় সড়কে মানুষের চলাচলও ছিল সীমিত। প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। যানবাহন বন্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বাঘাইহাট স্টেশনের লাইনম্যান জসিম বলেন, অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করছেন। এ কারণে সাজেক সড়কে স্থানীয় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, বর্তমানে সাজেকে পর্যটক নেই বললেই চলে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আগাম বুকিং দেওয়া পর্যটকদের অনেকে তা বাতিল করেছেন। সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকদের যাতায়াতও সম্ভব হচ্ছে না।

গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠন এ অবরোধের ডাক দিয়েছে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা জানান, অবরোধ কর্মসূচি এখনও চলছে। সাজেকের ১০ নম্বর ও ১৪ কিলোমিটার এলাকায় তাদের কর্মীরা পিকেটিং করছেন।

এ বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, আগের দিনের মতো পরিস্থিতি বর্তমানে নেই। তবে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করছে।

জানা গেছে, দুই সংগঠনের তৃতীয় দফায় ডাকা অবরোধের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সাজেকে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই দিন সকাল থেকে উজো বাজার এলাকায় অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধকারীরা পর্যটকবাহী গাড়ির বহর চলাচলে বাধা দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিলে গাড়িবহর সামনে এগিয়ে যায়।

এরপর বেলা ১১টার দিকে সেখানে গোলাগুলি শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ।

এ ঘটনার পর সাজেকে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফেরার পথে অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আগের দিনের গোলাগুলির ঘটনার পর নতুন করে অবরোধ চলতে থাকায় সাজেকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এবং সড়কে যান চলাচল পুনরায় চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা।