ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল বৃদ্ধা মায়ের রক্তাক্ত মরদেহ। পাশে বঁটি হাতে ঘোরাফেরা করছিলেন মেয়ে। জানালা দিয়ে এ দৃশ্য দেখে পুলিশকে খবর দেন প্রতিবেশীরা। পরে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং মেয়েকে আটক করা হয়।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের ডেউলিয়া গ্রামের বাদশা মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেতারা বেগমের বয়স ৭০ বছর। তিনি ওই এলাকার মৃত হোসেন আহমদের স্ত্রী। এ ঘটনায় আটক হয়েছেন তার মেয়ে রানু আক্তার (৪২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানু আক্তার বিবাহিত। বেশ কিছুদিন ধরে তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছিল। সম্প্রতি শ্বশুরবাড়িতে স্বামীর সঙ্গে মারধরের ঘটনার পর তাকে চিকিৎসার জন্য বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। রবিবার রাতে মাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার সময় বাড়িতে সেতারা বেগম, তার মেয়ে রানু আক্তার ও এক পুত্রবধূ ছিলেন। মাকে হত্যার পর রানু বঁটি হাতে ওই পুত্রবধূকে তাড়া করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুত্রবধূ একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে অবস্থান নেন। এ সময় কয়েকজন প্রতিবেশী জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরের দৃশ্য দেখে পুলিশকে খবর দেন।
নিহতের ছেলে ফিরোজ আলম সম্প্রতি প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছেন। তিনি জানান, তার বোন রানু আক্তারের বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে নিয়মিত ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়া হতো। ঘটনার রাতে ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করলে রানু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত ১০টার দিকে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সেতারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় এবং রানু আক্তারকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বঁটির আঘাত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রানু আক্তারের মানসিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।