সেই উপজেলায় এবার ঘরে ঢুকে হাত-পা বেঁধে নগদ টাকা ও স্বর্ণ লুট

চট্টগ্রামের রাউজানে এবার ঘরে ঢুকে হাত-পা বেঁধে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটেছে। প্রবাসে যাওয়ার জন্য জমানো তিন লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দুর্বৃত্তদের হামলায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মঙ্গলখালী গ্রামের ছমাদ আলী মুন্সির বাড়ির মৃত রফিকের ঘরে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গভীর রাতে হঠাৎ শব্দ শুনে ঘুম ভাঙে মৃত রফিকের স্ত্রী মসুদা খাতুনের। তিনি বিছানা থেকে উঠে দেখতে পান, তার ছোট ছেলে নাঈম উদ্দিন রিটুর মুখ ও হাত-পা বাঁধা। এ সময় পেছনের দরজা ও ছাদের দরজা দিয়ে তিন জনকে পালিয়ে যেতে দেখেন তিনি। ডাকাতদল ওই ঘরে ঢোকার আগেই ওয়াইফাই এবং বাড়ির চারটি সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মসুদা খাতুন জানান, তার অন্য দুই ছেলেও প্রবাসী। ছোট ছেলে নাঈম উদ্দিন রিটু প্রবাসে যাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনেক কষ্টে টাকা জমিয়েছিল। রুমের একটি আলমারিতে গচ্ছিত রাখা তিন লাখ টাকা এবং চার ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ সময় তার ছেলেকে মাথায় আঘাত করা হয়েছে।

আহত নাঈম উদ্দিন রিটু জানান, তিনি আগে বেশ কয়েক বছর প্রবাসে ছিলেন এবং দেশে ফিরে বর্তমানে হাঁস-মুরগি ও ছাগলের একটি খামার পরিচালনা করছেন। পুনরায় প্রবাসে যাওয়ার জন্য ভিসার প্রসেসিং করতে এই টাকাগুলো ঘরে রেখেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, রাতে শব্দ শুনে ভেবেছিলাম, আমার ভাগিনা উঠেছে। কিন্তু যখন বুঝতে পারি তারা ডাকাত, ততক্ষণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে আমার হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। চিৎকার করার চেষ্টা করলে তারা আমার কপালে আঘাত করে। পুরো ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে ফেলেছে। 

এ প্রসঙ্গে রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, এটি ডাকাতি নয়, চুরির ঘটনা। এ ঘটনায় আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর জমি রেজিস্ট্রি করতে যাওয়ার পথে অস্ত্র ঠেকিয়ে ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। দিনদুপুরে উপজেলার কদলপুর নতুনহাট সংযোগ সড়কের বড়ুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, রাউজানে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সহিংসতা, গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। উপজেলাজুড়ে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে কমপক্ষে ১২টি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।