সাজেক সড়কে পাল্টাপাল্টি অবরোধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

রাঙামাটির সাজেক সড়কে একদিনের জন্য অবরোধ কর্মসূচি শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে দুটি সংগঠন। তবে এর বিরোধিতা করে পাল্টা অবরোধের ডাক দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এতে সাজেক সড়কে যান চলাচল নিয়ে নতুন করে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার সকাল থেকে চালক ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়িসহ আন্তজেলা বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সকাল থেকে বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে কোনো যাত্রীবাহী গাড়ি ছেড়ে যায়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

পরিবহনশ্রমিকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবরোধের কারণে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় চালক ও শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতেই এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি যাত্রীবাহী পিকআপ ও জিপ কাউন্টারের লাইনম্যান স্বপন কান্তি দে বলেন, বাঘাইছড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয়েছে, আর কোনও গাড়ি চলবে না। তাই তারা টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।

একই কাউন্টারের লাইনম্যান রুনু কান্তি দে বলেন, চালক ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের ইচ্ছামতো সড়ক অবরোধ ঘোষণার প্রতিবাদসহ নানা দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এর ফলে সকাল থেকে বাঘাইছড়ি থেকে কোনও যাত্রীবাহী পিকআপ বা জিপ ছেড়ে যায়নি। বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

তবে রাঙামাটির আন্তজেলা বাসের লাইনম্যান সুমন চাকমা বলেন, সকাল থেকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও নানিয়ারচরসহ বিভিন্ন রুটের বাস নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে। রাঙামাটির এই অংশে কোনও অবরোধ নেই। তবে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি সাজেক সড়কে ১২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।

কমিটির সদস্যসচিব বিন্দু লাল চাকমার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেকে সহিংসতা ও সশস্ত্র তৎপরতা, ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় সশস্ত্র মহড়া এবং পর্যটকদের জিম্মি করে হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শনিবার (৩১ অক্টোবর) কলাবুনিয়া এলাকায় নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, তৃতীয় দফায় গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছিল। তবে এলাকার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১ নভেম্বর এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেয় সংগঠন দুটি।

সংগঠন দুটির অন্যতম দাবি, জেএসএসের সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নিতে হবে।