সাজেকে আজও দুই ঘণ্টা ধরে চলছে গোলাগুলি, এলাকায় আতঙ্ক

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপ) সঙ্গে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসীত গ্রুপ) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। থেমে থেমে দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ওই এলাকায়।

রবিবার (০১ নভেম্বর) বিকালে সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাচালং সংলগ্ন লাঙ্গল মারা ও দক্ষিণ ভাইবোনছড়ার রিজার্ভ ফরেস্ট মনের চূড়া এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে এতে প্রাথমিকভাবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিকাল সোয়া ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে। এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল।

পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রবিবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে লাঙ্গল মারা ও দক্ষিণ ভাইবোনছড়ার রিজার্ভ ফরেস্ট মনের চূড়া এলাকায় জেএসএস এবং ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাদের মধ্যে গোলাগুলি চলছে।

সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) পরিচয় চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দক্ষিণ ভাইবোনছড়ার রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকার মনের চূড়ায় বিকাল সোয়া ৩টার দিকে গোলাগুলি হয়। এলাকাটি দুর্গম এবং আশপাশে কোনও বসতি না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।’

এর আগে শনিবার দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবুনিয়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের দাবি, ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের দুজন নিহত হয়েছেন। তবে কোনও সংগঠনই এই হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করেনি।

টানা দ্বিতীয় দিন গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লাঙ্গল মারা ও মনের চূড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেএসএস এবং ইউপিডিএফের মধ্যে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গোলাগুলি চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। আমরা এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’

এদিকে পর পর দুদিন সাজেকের দুর্গম এলাকায় পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে এমন সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাটিতে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অপরদিকে, রাঙামাটির সাজেক সড়কে একদিনের জন্য অবরোধ কর্মসূচি শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে দুটি সংগঠন। তবে এর বিরোধিতা করে পাল্টা অবরোধের ডাক দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে সাজেক সড়কে যান চলাচল নিয়ে নতুন করে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার সকাল থেকে চালক ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়িসহ আন্তজেলা বাস চলাচল স্বাভাবিক আছে।