দিনে অস্ত্র হাতে ভিডিও ভাইরাল, রাতে চারজন গ্রেফতার

কুমিল্লায় দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে ‘এসবিএস’ কিশোর গ্যাংয়ের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে চার কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রবিবার (০১ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার উনাইসার এলাকার ভাড়াটিয়া লোকমান হোসেনের ছেলে ইয়াছিন আহমেদ আকাশ (১৭), মনির হোসেনের ছেলে মো. হাবিব (১৭), কালা মিয়ার ছেলে হাবিব (১৭) এবং একই এলাকার ভাড়াটিয়া ও ‘সিটিজি’ গ্রুপের অ্যাডমিন শাওন (১৭)। 

ভিডিওতে বেশ কয়েকজন কিশোর-তরুণকে রামদা, চাপাতি, ছেনিসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাদের কয়েকজনের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।

ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ওই উনাইসারে কোনও ট্রেন্ড আছে রে?’ অন্যরা সমস্বরে জবাব দেয়, ‘আছে।’ এরপর বলা হয়, ‘ওই সেই ট্রেন্ড, এসবিএস।’ পরে সবাই মিলে ‘জোরে বলো এসবিএস, এসবিএস, এসবিএস’ বলে স্লোগান দেয়।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে দেশীয় অস্ত্র হাতে কয়েকজন কিশোরের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ। 

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ১১টা থেকে রাত পৌনে ১টা পর্যন্ত সদর দক্ষিণ মডেল থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন ‘এসবিএস’ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং অপরজন ‘সিটিজি’ গ্রুপের অ্যাডমিন।

ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘অস্ত্র হাতে কিশোরদের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংকে আর মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। নতুন করে আলোচনায় আসা ‘এসবিএস’ গ্যাংয়ের চার সদস্যকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাদের দেখা গেছে। গ্যাংটির অন্য সদস্যদেরও দ্রুত আটকের চেষ্টা চলছে।