ফেনীতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ নামক কর্মসূচিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হুমকি, লাঞ্ছিত ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক নেতা সাংবাদিকদের উদ্দেশে ‘অতীতে শত শত সাংবাদিককে পেটানোর’ দাবি করে হুমকি দিয়েছেন। পরে বিষয়টি সংগঠনটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরকে জানানো হলেও তিনি সাংবাদিকদের প্রতি ‘ভালো’ আচরণের আহ্বান না জানিয়ে উল্টো মাইকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
রবিবার (১ নভেম্বর) বিকালে ফেনী শহরের মহিপাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিতে এসব ঘটনা ঘটে।
গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, কর্মসূচিতে সংবাদ সংগ্রহের সময় ইনকিলাব মঞ্চের এক নেতা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশে শত শত সাংবাদিককে পিটিয়েছি। মুন্নী সাহাকে পিটিয়ে মামলা খেয়েছি। আপনারা কী? কতজন আসতে পারেন দেখি।’
এ ধরনের বক্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সাংবাদিক তানজিদ শুভ, এসএইচ টিপু ও এম কাওছারসহ অন্যরা বিষয়টি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরকে জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের অভিযোগ শোনার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মাইকে উচ্চস্বরে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ঝামেলা করবেন, দেখি কত ঝামেলা করতে পারেন। আমার সঙ্গে এসে ঝামেলা করেন।’ এ সময় তিনি আঙুল উঁচিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সাংবাদিক তানজিদ শুভ অভিযোগ করেন, ‘মহিপাল থেকে ফেনী শহরে আসার পথে সংবাদ সংগ্রহের সময় ইনকিলাব মঞ্চের এক নারী কর্মী আমার দিকে তেড়ে আসেন। একপর্যায়ে ধাক্কা দেন এবং ‘‘ফেনীর প্রত্যয়ের’’ (সংবাদমাধ্যম) বুম সরিয়ে দেন। এতে আমার সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা সৃষ্টি হয়।’
গণমাধ্যমকর্মী এস এইচ টিপুর অভিযোগ, তিনি সরাসরি সম্প্রচার করার সময় ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা থেকে আসা নেতাকর্মীদের একজন তার মোবাইল ক্যামেরা ছুড়ে ফেলে দেন। অন্যদিকে, ভিডিও ধারণের সময় গণমাধ্যমকর্মী এম কাওছারের দিকেও একজন তেড়ে এসে হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে রয়েছে। ফুটেজে ঘটনার বিভিন্ন অংশ এবং আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের মাইকে দেওয়া বক্তব্য ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সংবাদ সংগ্রহ করা তাদের পেশাগত দায়িত্ব। কোনও প্রশ্ন বা সংবাদ ধারণ অপছন্দ হলে তার প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া, ক্যামেরা ছুড়ে ফেলা কিংবা হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে সাংবাদিকদেরই হুমকি ও হয়রানির মুখে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।