ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বরিশল’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাবে সড়ক অবরোধ, ডিসি কার্যালয় ঘেরাও

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন। একই সঙ্গে শহরের কাউতলী এলাকায় চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সোমবার বেলা পৌনে ১২টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর ও বাসুদেব ইউনিয়ন এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের বাসিন্দারা অংশ নেন।

অবরোধ চলাকালে রামরাইল ইউনিয়নের বাসিন্দা সেলিম মিয়া ও সুলতানপুর ইউনিয়নের মোস্তফা মিয়া অভিযোগ করেন, চারটি ইউনিয়ন ভেঙে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, জেলা বিএনপির নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। এর আগে সদর উপজেলা ভেঙে তার নিজ এলাকায় বরিশল নামে একটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে চার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে নেমেছেন বলে জানান তারা।

সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, বিজয়নগর উপজেলা ভেঙে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ তারা মেনে নেবেন না। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জেলা বিএনপির নেতা নুরুল হুদা সরকার বলেন, নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে কয়েক দিন ধরে চার ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার মহাসড়ক অবরোধ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হয়। এ উদ্যোগের জন্য তিনি কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে দায়ী করেন।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে জেলা, উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি নেতারা কিছু জানেন না। প্রশাসনের একটি চিঠির মাধ্যমে তাঁরা এ প্রক্রিয়ার কথা জানতে পেরেছেন। তার অভিযোগ, চার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রতিফলন বলে মনে করেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, এ প্রক্রিয়া বাতিল করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত বিজয়নগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন বলেন, সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন ভেঙে নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দারা কিছু জানেন না। এ কারণে সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও বিজয়নগরের একটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

ইমাম হোসেনের ভাষ্য, জেলা প্রশাসক তাদের জানিয়েছেন, একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় একটি উপজেলা গঠন করা যায় না। বরিশল একটি ছোট গ্রাম; সেখানে উপজেলা গঠনের মতো বাস্তবতা নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদনে তুলে ধরবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। তবে কলাপসিবল গেট বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। অন্যদিকে কাউতলী মোড় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। এতে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

পরে জেলা বিএনপির নেতারা জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসক তাদের দাবির বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন আকারে পাঠানোর আশ্বাস দেন।

বৈঠক শেষে জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ও বিজয়নগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেন। তারা জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবির বিষয়ে সুরাহা না হলে আবারও রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ করা হবে। পরে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।