যারা দিল্লিতে আপন ঠিকানায় আছে, তারা এ দেশে আর রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দেশের মানুষকে যারা হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, আলেম ওলামার রক্ত নিয়েছে তেমন কোনও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দেশের মানুষ আর রাজনীতি করতে দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘যারা গণহত্যা চালিয়ে এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে নাই, অনুশোচনা করে নাই, অনুতপ্ত নয়। যারা এই দেশে গণঅভুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, নিজের আপন ঠিকানায় দিল্লিতে বসে আছে। তারা কখনও এই দেশে এসে আর রাজনীতি করতে পারবে না।’

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসার দুই দিনব্যাপী ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর লেগেছে। আর ফ্যাসিবাদী সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ১৬ থেকে ১৭ বছর লেগেছে। এ সময়ে আলেম-ওলামা ও ছাত্রসমাজের অনেকে শহীদ হয়েছেন। অসংখ্য মানুষ গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর আগে ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ হামলা-মামলার মাধ্যমে নিপীড়িত হয়েছেন।’

গার্মেন্টসশিল্পে অস্থিরতা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে কিছু দুষ্কৃতকারী রয়েছে, যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করছে। কিন্তু তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলামী শাসন বা শরিয়াভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠার কোনও প্রতিশ্রুতি নেই। সরকার ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।’

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়গুলো সংবিধানে ধারণ করা হবে।’ সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন করা দল। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা এ দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের সৃজন করেছি। যেখানে আমাদের সবারই একটা জাতীয় পরিচয় আছে। এই দেশে আমরা কখনও জাতির মধ্যে বিভেদ দেখতে চাই না।’

যারা ধর্মের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করছে, তাদের কার্যকলাপে ধর্মীয় কোনও প্রতিফলন নেই দাবি করে বলেন, ‘তারা কেবলই এ দেশে বিভক্তির সৃষ্টি করছে। তারা স্বাধীনতার পূর্ব থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতি করে এই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। আবার তারা সেই রাস্তায় গিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাবুনগর মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রমুখ।