১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে বীরদর্পে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছিলেন মুন্সি আব্দুর রউফ। বাংলাদেশ বিডিআর-এ কর্মরত তিনি ছিলেন ল্যান্স নায়েক। ২৬ মার্চ যুদ্ধ শুরু হলে বিডিআর দলের সঙ্গে তিনিও ছুটে আসেন পার্বত্য চট্টগ্রামে। রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে শত্রুবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে মুন্সি আবদুর রউফ বীরদর্পে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। শত্রুবাহিনীর তিনটি নৌযান একাই ধ্বংস করেন তিনি।
তার সমরসঙ্গী রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু জানান, সেই সময় পাকিস্তানি বাহিনীর গোলার আঘাতে আমাদের নৌযানও ধ্বংস হয়েছিল। আমরা বেশ কয়েকজন সাঁতরে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে আশ্রয় নেই। মুন্সি আব্দুর রউফকেও সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনেক ডাকাডাকি করি। কিন্তু তিনি বললেন, ‘তোমরা নিরাপদে সরে যাও। আমি যুদ্ধ চালিয়ে যাবো।’ একসময় পাকিস্তানি বাহিনীর ছোড়া মর্টারের আঘাতে শহীদ হন মুন্সি আব্দুর রউফ।
সেসময় এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দয়াল কৃষ্ণ চাকমা নামের একজন তার ছিন্ন ভিন্ন শরীর এক করে সেখানেই সমাধিস্থ করেন। তার এ বীরত্বের জন্য তাঁকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। স্বাধীনতার ২৫ বছর পরে ১৯৯৬ সালে তার সমাধিস্থল চিহ্নিত করা হয়। এরপর থেকে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসেই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আর তার বীরমাতা মুকিদুন্নেসাকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও বিজিবির পক্ষ থেকে সম্মাননা দেয়া হয়।
আরও পড়ুন:
কিন্তু ২০ এপ্রিল তার শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে কিংবা বিডিআর(বর্তমানে বিজিবি) কিংবা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে কোনও আয়োজন করা হয় না।
প্রসঙ্গত, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার সালামতপুর গ্রামে ১৯৪৩ সালের ১মে জন্মগ্রহণ করেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ। বাবা মেহেদী হোসেন স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। তিন ভাই-বোনদের মধ্যে আব্দুর রউফ ছিলেন বড়। উপজেলার কামারখালী হাই স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াবস্থায় তৎকালিন ইপিআর বর্তমানে বিজিবিতে যোগ দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন:
/এআর/