কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, ফিন্যান্স ২য় পত্র ও পৌরনীতি ২য় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হওয়াতে শুরু থেকে ছাত্ররা কক্ষের মধ্যে ঝামেলা শুরু করেন। পরে রচনামূলক পরীক্ষায় বোর্ডের সদস্যের উপস্থিতির কারণে নকল করতে না পেরে পরীক্ষা শেষে তারা এ তাণ্ডব চালায়।
আরও পড়ুন: ভারতীয় আইবি পুলিশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগ
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় কলেজ প্রাঙ্গনে কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনিত পাল। তিনি বলেন, সকাল সোয়া ১০টায় বোর্ডের পর্যবেক্ষক দলের ৩ জন সদস্য কেন্দ্রে পরিদর্শন শেষে বেলা ১টায় কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এরপর হাজীগঞ্জ মডেল কলেজের কিছু শিক্ষকের উস্কানিতে কয়েক’শ পরীক্ষার্থী কলেজের মসজিদসহ ২০টি পরীক্ষা কক্ষের আসবাবপত্র, দরজা-জানালা, জানালার কাঁচ, কলেজ গেইট, বাগানের দেয়াল, বাথরুমের ভিতরে বিভিন্ন পাইপ ও বাইরের চারা গাছ ভেঙে ফেলেন। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও পর্যবেক্ষকগণ তাদের বাঁধা দিতে গেলে তাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরীক্ষার্থীদের বেপরোয়া হামলা ও ভাঙচুরের কারণে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
দেশের আরও খবর: রংপুরে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া ৫ সন্তানের ৩ জনের মৃত্যু
তিনি আরও জানান, পরীক্ষার্থীদের হামলার খবর পেয়ে এলাকাবাসীকে মসজিদ থেকে মাইকিং করে এগিয়ে আসার আহ্বান করা হয়। এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে ছাত্রদের হামলায় কমপক্ষে ৮ জন আহত হন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এলাকাবাসী এগিয়ে আসায় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা আশেপাশের বাড়ি-ঘরেও হামলা করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি।
ছাত্রদের তাণ্ডবের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও মডেল কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কেন্দ্রে নিয়োজিত কর্মকর্তা শাহ আলী রেজা আশরাফী জানান, বোর্ড থেকে টিম আসার কারণে ও প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ কাজটি করেছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে যথা সময়ে খাতা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ সত্য নয়।
আরও পড়ুন: চাঁদা না দেওয়ায় যুবককে জেলহাজতে পাঠানো সেই এএসআই প্রত্যাহার
তবে মডেল কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটোয়ারী শিক্ষার্থীদের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে খাতা নিয়ে যাওয়ায় ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেছেন।
আলমগীর কবির আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুটি কলেজের মধ্যে ফল নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আমাদের কলেজের কেন্দ্র ওই কলেজে না দেওয়ার জন্য বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি কিন্তু কেউ আমার কথা শুনেননি।
ইউএনও শেখ মুর্শিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনের পরে বসবো। তবে ডিগ্রি কলেজের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার ব্যয়ভার মডেল কলেজকে নিতে হবে।
/এএ/