এবার ধামরাইয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের এক শিক্ষককে কান ধরে ওঠবোসের ঘটনায় যখন সারাদেশে তোলপাড় ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকার ধামরাইয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করার পর পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল মালেককে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাই উপজেলার ১১নং পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ফৌজিয়া ইয়াসমিন গত শনিবার (১৪ মে) অফিস কক্ষের কিছু আসবাবপত্র পাশের একটি শ্রেণিকক্ষে সরাতে বলেন। এ নিয়ে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা কানিস নাছিমা ও সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা দু’জনই পরের দিন রবিবার বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ ফজলুল হক ও সহ-সভাপতি আবদুল মালেককে স্কুলে ডেকে নিয়ে আসেন। এসময় আবদুল মালেক প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। প্রধান শিক্ষিকা তাকে প্রত্যুত্তর করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তার গায়ে হাত তোলেন আবদুল মালেক। এতে সহযোগিতা করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেন ও কানিস নাছিমা।

মারধরের কারণে প্রধান শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

এ ঘটনায় ফৌজিয়া ইয়াসমীন জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

এ বিষয়ে ফৌজিয়া ইয়াসমীন বলেন, অফিস কক্ষের মালামাল পরিবর্তন করায় তাকে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি অকথ্য ভাষায় গালি দেন। একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষকা কানিস নাছিমা ও সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেনের সহযোগিতায়  আমাকে শারীরিক নির্যাতন করেন আবদুল মালেক।

এদিকে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে কানিস নাছিমা ও সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষিকা কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে নিজের একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের কাজকর্ম করে থাকেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক হয়েছে, তবে তাকে মারধর করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আবদুল মালেক জানান, প্রধান শিক্ষিকা কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে তার একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের সকল কাজ করে থাকেন। তিনি ঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন না।

এসময় প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, তার সঙ্গে তর্ক হয়েছে। কিন্তু তাকে মারধর করা হয়নি বরং তিনিই আমাকে মারতে এসেছিলেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান বলেন, এ ঘটনার একটি অভিযোগ পেয়ে তিনি ওই স্কুল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতাও পেয়েছেন। এছাড়াও এ ঘটনার একটি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক টিপু বলেন, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল মালেককে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

/এআর/টিএন/