বৃহস্পতিবার বিকালে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি হাসপাতালের কেবিনের সামনে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকলেও তাদের সঙ্গে কোনও কথা বলবেন না বলে জানান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত।
জানা গেছে, ১৩ মে ঘটনার পরদিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম নুরুল আমিনকে প্রধান করে প্রথমে একটি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে ১৭ মে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর কুমার সাহা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপনকে অন্তর্ভুক্ত করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিকে মঙ্গলবার থেকে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই অসুস্থবোধ করছেন প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালেই তিনি জানান, আমি একের পর এক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে পাগল হয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে।
দুপুর আড়াইটার পর থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করতে থাকেন। তিনি গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন আমাকে একই প্রশ্ন বার বার করা হচ্ছে। এমনটি চলতে থাকলে তো আমি মারা পড়বো। আপনারা কি আমাকে বাঁচাতে চান না মারতে চান।
পরে হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা.মো.শফিউল আলম ফেরদৌস তার কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বেশি কথা বলতে বলতে ওই শিক্ষকের মাথার ওপর চাপ পড়ছে। এতে করে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৬ টার দিকে তদন্ত কমিটির ৫ সদস্য নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ৩নং কেবিনে চিকিৎসাধীন থাকা শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের সঙ্গে কথা বলতে যান। তবে এসময় তিনি কারও সঙ্গে দেখা করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত তদন্ত কমিটির ৫ সদস্য অপেক্ষা করে চলে আসেন।
তদন্ত কমিটির সদস্য জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর কুমার সাহা জানান, তারা বৃহস্পতিবার বিকেলে লাঞ্ছিত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞার কারণে শ্যামল কান্তি তাদের সঙ্গে দেখা করেননি।
আরও পড়ুন: সেলিম ওসমানকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান হানিফের
/এআর/টিএন/