ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শাখা ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল ও পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন।
পরিদর্শন শেষে মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের পরিদর্শক মাহবুবুল আলম ও বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম।
তদন্ত দল বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তারা ১০ জন ছাত্র ও ১০ জন ছাত্রীর কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন।
গত ২৯ মে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসির দেওয়া প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট ওই প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে আগামী ৮ জুনের মধ্যে আবারও ‘সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত’ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘ডিসিসহ অন্যদের বলবেন, যেন দায়সারা গোছের প্রতিবেদন না দেয়। দায়সারা হলে আগামীতে এ রকম প্রতিবেদন গ্রহণ করা হবে না। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে কুণ্ঠিত হব না।’
বিষয়টি আগামী ৯ জুন আবারও আদালতে উঠবে জানিয়ে আদেশে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে।
গত ৮ মে শ্রেণিকক্ষে রিফাত হাসান নামের এক ছাত্রকে মারধর করেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। ওই মারধরের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন এমন অভিযোগ তুলে গত ১৩ মে স্থানীয় ৩টি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কয়েক হাজার লোক স্কুলে জড়ো হলে ওই শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে তাকে কান ধরিয়ে উঠবস করান স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। দেশজুড়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবির মধ্যেই ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তার দুই দিনের মাথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল পর্ষদের ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে শিক্ষককে পদে বহাল করেন। আর নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ওই স্কুল কমিটিকেই মন্ত্রণালয় বাতিল ঘোষণা করে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান ও মহসীন রশিদ গত ১৮ মে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরেন। এর প্রেক্ষিতে ওইদিন আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। এমপি সেলিম ওসমানসহ ওই ঘটনায় যাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। পাশাপাশি ওই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও আদালত জানতে চান।
আরও পড়ুন: প্রেমের প্রস্তাব: এবার রাজউক স্কুলের শিক্ষার্থীকে টিসি
/এসএনএইচ/টিএন/আপ-এনএস/