নারায়ণগঞ্জে ৫ খুনের ঘটনায় অভিযোগপত্র গঠন

নারায়ণগঞ্জনারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর পাঁচ খুনের মামলায় বিচার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে মামলার একমাত্র আসামি ভাগ্নে মাহফুজের উপস্থিতিতে মামলাটির অভিযোগপত্র গঠনের মধ্য দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ শুরু হলো। অভিযোগপত্র গঠন করে পরবর্তীতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদেশ দেন আদালত। তবে আদালত এদিন পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করেননি।

এর আগে গত ৫ মে মামলাটি বিচারের জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বদলি হয়ে আসলে ২৫ মে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এসএম ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সাক্ষী গ্রহণের তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে। এ মামলায় আসামি মাহফুজের পক্ষে কোনও আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট সুলতানুজ্জামানকে মামলাটি পরিচালনার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতের কাঠগড়ায় বেশ খোশ মেজাজে ছিলেন আসামি মাহফুজ। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ঘুরে ফিরে মাহফুজকে গুনগুন করে গান গাইতেও দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ১৬ জানুয়ারি রাতে শহরের বাবুরাইল এলাকা থেকে তাসলিমা (৩৫), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), তাসলিমার ছোট ভাই মোরশেদুল (২২) ও তার জা লামিয়ার (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন ১৭ জানুয়ারি সকালে নিহত তাসলিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তার ভাগ্নে মাহফুজ, ঢাকার কলাবাগানের নাজমা ও শাহজাহানের নাম উল্লেখ করে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতেই মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন গ্রেফতার করা হয় মাহফুজ ও নাজমাকে। পরে ২১ জানুয়ারি আদালতে মাহফুজ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতে মাহফুজের স্বীকারোক্তি ছিল অনেকটাই গা শিউরে উঠার মত। মামির সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরে তার সঙ্গে আরও গভীর সম্পর্কে যেতে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষোভ থেকেই একে একে পাঁচজনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন তিনি।

আরও পড়ুন- 

পাবনায় সেবক হত্যা: গ্রেফতার শিবির নেতা ৫ দিনের রিমান্ডে

 

/বিটি/এফএস/